একটি গানের মিউজিক ভিডিওর মাধ্যমে শুরু হয়েছিল তাঁদের পথচলা। প্রথম পরিচয়, তারপর একে অপরের প্রতি ভালো লাগা এবং প্রেম। তবে সেই ভালোবাসাকে দীর্ঘ সময় আড়ালে রেখেছিলেন তাঁরা। অবশেষে বিয়ের ঘোষণা দিয়ে সবার সামনে আসেন প্রীতম হাসান ও শেহতাজ মনিরা হাশেম। তাঁদের এই প্রেমকাহিনি ছিল অত্যন্ত ব্যক্তিগত। ২০২২ সালে যখন তাঁদের বিয়ের খবরটি প্রকাশ্যে আসে, তখন অনেকের কাছেই তা ছিল এক বড় চমক। কারণ, জনপ্রিয় তারকা হয়েও তাঁরা নিজেদের সম্পর্কটি দীর্ঘ সময় গোপন রেখেছিলেন।

তবে ২০২৬ সালের অক্টোবরের শুরুতে সেই সম্পর্কের এক নতুন ও বেদনাদায়ক অধ্যায় শুরু হলো। এবার একসঙ্গে থাকার বদলে আলাদা পথে হাঁটার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তাঁরা। গতকাল রোববার রাতে নিজেদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পৃথক পোস্টে বিচ্ছেদের কথা ঘোষণা করেন প্রীতম ও শেহতাজ।

‘জাদুকর’ গান থেকেই তাঁদের গল্পের সূচনা। ২০১৭ সালে প্রীতম হাসানের ‘জাদুকর’ গানের মিউজিক ভিডিওতে মডেল হিসেবে কাজ করেছিলেন শেহতাজ। সেই ভিডিওতে তাঁদের একসঙ্গে দেখা গিয়েছিল, যদিও তখন তাঁদের সম্পর্কের কথা জানত না কেউ। প্রীতম নিজেই পরবর্তীতে তাঁদের প্রথম পরিচয়ের স্মৃতিচারণ করেছিলেন। ২০২২ সালের অক্টোবরে এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, ‘জাদুকর’-এর শুটিং সেটেই শেহতাজের সঙ্গে তাঁর পরিচয়। প্রথম দেখাতেই তিনি বুঝেছিলেন, শেহতাজই তাঁর জীবনের মানুষ হতে পারেন। শেহতাজের কাছ থেকেও নিজের অনুভূতির প্রতিক্রিয়া পাওয়ার পর তিনি তাঁর মায়ের কাছে গিয়ে বিয়ের ইচ্ছার কথা জানিয়েছিলেন বলে সাক্ষাৎকারে জানান প্রীতম।

দীর্ঘ পাঁচ বছর প্রেমের সম্পর্ক গোপন রাখার পর ২০২২ সালের অক্টোবরেই হঠাৎ তাঁদের বিয়ের খবর সামনে আসে। তখন জানানো হয়েছিল, ২৭ অক্টোবর প্রীতম ও শেহতাজ শ্রীমঙ্গলের একটি পাঁচ তারকা হোটেলে বিয়ে করতে যাচ্ছেন। পাঁচ বছর আগে ‘জাদুকর’ গানের শুটিংয়ের সময় তাঁদের ভালো লাগা শুরু হয়েছিল এবং পরবর্তীতে তা গভীর প্রেমে পরিণত হয়।

বিচ্ছেদের এই ঘোষণার পর এখন প্রশ্ন উঠছে, তাঁদের সম্পর্কের মধ্যে কি আগে থেকেই টানাপোড়েন ছিল? তাঁদের ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো জানাচ্ছে, বেশ কিছুদিন ধরেই দুজনের সম্পর্ক খুব একটা ভালো যাচ্ছিল না। কাছের মানুষদের মধ্যেও তাঁদের আলাদা হয়ে যাওয়ার বিষয়ে আলোচনা চলছিল। চলতি বছরের জানুয়ারিতে জেফার রহমান ও রাফসান সাবাবের বিয়ের অনুষ্ঠানেও একসঙ্গে দেখা গিয়েছিল প্রীতম ও শেহতাজকে। তবে প্রীতম ও শেহতাজ কেউই গণমাধ্যমে খুব বেশি কথা বলেন না। বিয়ের পর দেওয়া হাতেগোনা কিছু সাক্ষাৎকার ছাড়া ব্যক্তিগত জীবন তাঁরা সেভাবে প্রকাশ্যে আনেননি। ফলে তাঁদের সম্পর্কের ভেতরে চলা টানাপোড়েনের আঁচ বাইরে পাওয়া যায়নি। এই কারণেই বিবাহবার্ষিকীর মাত্র ২৫ দিন আগে তাঁদের বিচ্ছেদের ঘোষণা অনেককেই বিস্মিত করেছে।