শিশু ও কিশোরদের মধ্যে ক্রমবর্ধমান স্থূলতা বা অতিরিক্ত ওজন মোকাবিলায় ওষুধের পরিবর্তে স্বাস্থ্যকর জীবনযাত্রার ওপর অধিক গুরুত্বারোপ করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। সংস্থাটির মতে, ওজন কমানোর ওষুধের চেয়ে পুষ্টিকর খাবার, নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম এবং যথাযথ কাউন্সেলিং এই সমস্যা সমাধানে অধিক কার্যকর।
গত বুধবার স্থূলতা বিষয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রকাশিত প্রথম বৈশ্বিক নির্দেশিকায় এই বিশেষ সুপারিশগুলো করা হয়েছে।
নির্দেশিকায় উল্লেখ করা হয়েছে যে, ১০ থেকে ১৯ বছর বয়সী যেসব কিশোর-কিশোর স্থূলতায় ভুগছে, তাদের ক্ষেত্রে ওজন কমানোর ওষুধের বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে। তবে এই পদক্ষেপটি হবে সর্বশেষ ধাপ। ওষুধ ব্যবহারের আগে অবশ্যই বিশেষজ্ঞের তত্ত্বাবধানে খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তন, নিয়মিত শারীরিক কর্মকাণ্ড এবং কাউন্সেলিংয়ের মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করতে হবে। যদি এই প্রাথমিক পদক্ষেপগুলো ব্যর্থ হয়, তবেই কেবল ওষুধের কথা ভাবা যাবে।
এক সময়ের পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, শিশু ও কিশোরদের মধ্যে অপুষ্টিজনিত প্রধান সমস্যা ছিল কম ওজন। তবে ইউনিসেফের সাম্প্রতিক তথ্যানুযায়ী, বর্তমানে কম ওজনের তুলনায় অতিরিক্ত ওজন এবং স্থূলতায় আক্রান্ত শিশু-কিশোরের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পুষ্টি ও খাদ্যনিরাপত্তা বিভাগের পরিচালক লুজ মারিয়া দে রেগিল এই বিষয়ে বলেন, “স্থূলতার জন্য ব্যবহৃত ওষুধ সম্পর্কে এখনো পর্যাপ্ত প্রমাণ নেই। তবে এসব ওষুধের কার্যকারিতা ও সুরক্ষা নিয়ে চলমান গবেষণা পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।”