ঘরে বসেই সম্মানজনক উপার্জনের পথ তৈরি এবং নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টিতে কুটির ও হস্তশিল্প অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে বলে মনে করেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। তার মতে, যদি এই খাতের জন্য প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ, যথাযথ প্রচার এবং কার্যকর বিপণন সুবিধা নিশ্চিত করা যায়, তবে বিপুলসংখ্যক মানুষ স্বাবলম্বী হয়ে উঠতে পারবেন।

বুধবার (৭ অক্টোবর) বেলা ১১টায় রাজধানীর তেজগাঁও শিল্পাঞ্চলে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক) কর্তৃক আয়োজিত পাঁচ দিনব্যাপী ‘শরৎমেলা’র উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, "দেশের মানুষের কারিগরি দক্ষতা ও সৃজনশীলতা কাজে লাগিয়ে তৈরি দেশীয় পণ্যের মান ও সৌন্দর্য অত্যন্ত আকর্ষণীয়। কুটির শিল্পের সঙ্গে যুক্ত মানুষকে আরও স্বাবলম্বী করতে হলে তাদের দক্ষতা বাড়ানোর পাশাপাশি উৎপাদিত পণ্যের বাজার তৈরি করতে হবে।"

তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, কুটির শিল্পের অন্যতম বড় সুবিধা হলো অনেক কাজ ঘরে বসেই সম্পন্ন করা সম্ভব। বিশেষ করে নারীরা পরিবারের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি এই ধরনের কাজের মাধ্যমে আয় করতে পারেন। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, পণ্য উৎপাদনের পর তা যদি ক্রেতার কাছে পৌঁছে দেওয়া না যায়, তবে উদ্যোক্তারা কাঙ্ক্ষিত সুফল পাবেন না। তাই প্রশিক্ষণের পাশাপাশি প্রচার ও বিপণন ব্যবস্থার উন্নয়ন করা এখন সময়ের দাবি।

গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের মতে, কুটির শিল্পে আয়ের সম্ভাবনা পোশাক বা গার্মেন্টস খাতের চেয়েও বেশি হতে পারে। তবে এই সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দিতে হলে কারিগর ও উদ্যোক্তাদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ প্রদান এবং তাদের উৎপাদিত পণ্যের ব্যাপক প্রচার নিশ্চিত করতে হবে।

দেশীয় ঐতিহ্যবাহী পণ্যের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, "জামালপুরের নকশিকাঁথা, শীতলপাটি, মাটির তৈজসপত্র ও টেরাকোটার মতো পণ্যের এখনো ব্যাপক কদর রয়েছে। আধুনিক জীবনযাত্রার মধ্যেও মানুষ প্রকৃতি ও ঐতিহ্যনির্ভর পণ্যের দিকে ফিরছে। ফলে এসব পণ্যের দেশীয় বাজারের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারেও সম্ভাবনা রয়েছে।"

নারীদের অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতার বিষয়ে বিএনপির এই নেতা বলেন, সমাজের পিছিয়ে পড়া অনেক নারী ঘরে বসেই কুটির শিল্পের কাজ করে আয় করছেন। এর ফলে তারা কেবল ব্যক্তিগতভাবে স্বাবলম্বী হচ্ছেন না, বরং পরিবারের অর্থনৈতিক উন্নয়নে অবদান রাখছেন এবং সমাজে নিজেদের একটি স্বতন্ত্র অবস্থান তৈরি করছেন।

পরিবেশ দূষণের বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, বিশ্বব্যাপী পরিবেশ দূষণের একটি বড় অংশ উন্নত বিশ্বের কারণে হলেও বর্তমানে উন্নয়নশীল ও অনুন্নত দেশগুলোর ওপর নানা ধরনের শর্ত চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে। পরিবেশ দূষণের দায় ও দায়িত্ব বণ্টনের ক্ষেত্রে উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর বাস্তব অবস্থান বিবেচনা করা প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন।

প্রশাসনিক জটিলতার তীব্র সমালোচনা করে তিনি বলেন, ব্রিটিশ আমলের আমলাতান্ত্রিক মানসিকতা পরিহার করে সরকারি কর্মকর্তাদের জনগণের সেবক হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে হবে। ব্যবসা-বাণিজ্য এবং উদ্যোক্তাদের কাজ সহজ করার লক্ষ্যে প্রশাসনিক জটিলতা কমানো অত্যন্ত জরুরি।

প্রশাসনিক গতিশীলতার কথা বলে তিনি বলেন, “ফাইলের চাকা ঘোরাতে হবে।” ফাইল আটকে না রেখে দ্রুত কাজ নিষ্পত্তি করা হলে উদ্যোক্তারা প্রয়োজনীয় সহযোগিতা পাবেন এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড আরও গতিশীল হবে।

বিসিক ভবনের নিচতলায় আয়োজিত এই শরৎমেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিসিক চেয়ারম্যান বেনজীর আহমেদ। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব আব্দুস নাসের খান এবং অতিরিক্ত সচিব নুরুজ্জামান।

আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তেজগাঁও শিল্পাঞ্চলের বিসিক ভবনে শুরু হওয়া এই ‘শরৎমেলা’ আগামী ১১ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে। মেলায় শতাধিক স্টলে ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প উদ্যোক্তাদের তৈরি বিভিন্ন ধরনের পণ্য প্রদর্শন ও বিক্রি করা হচ্ছে। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য এই মেলা উন্মুক্ত থাকবে।