পাকিস্তানি নাটকের নায়কদের সাধারণত শক্ত ব্যক্তিত্ব এবং কর্তৃত্বপরায়ণ হিসেবে ফুটিয়ে তোলা হয়। তবে এই প্রচলিত ধারণার বাইরে ছিল আনাস চরিত্রটি। যে পুরুষ তার স্ত্রীকে গভীরভাবে ভালোবাসে, তার জন্য পোশাক ইস্ত্রি করে কিংবা নাশতা তৈরি করে দেয় এবং স্ত্রীর স্বপ্ন ও সিদ্ধান্তকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়—এমন এক ব্যতিক্রমী চরিত্রের দেখা পাওয়া গেছে এই ধারাবাহিকে। আর এই আনাসই এবার দর্শকদের কাছ থেকে বিদায় নিল।
সম্প্রতিই শেষ হয়েছে এআরওয়াই ডিজিটালের জনপ্রিয় পাকিস্তানি ধারাবাহিক ‘বাস তেরা সাথ হো’। এই নাটকের কেন্দ্রীয় চরিত্র আনাসের ভূমিকায় অভিনয় করেছেন অভিনেতা ফারহান সাঈদ। তাঁর বিপরীতে অভিনয় করেছেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী সানা জাভেদ। ধারাবাহিকটির সমাপ্তির পর আনাস চরিত্রের সাথে নিজের সম্পর্ক ও অনুভূতি ব্যক্ত করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি আবেগঘন পোস্ট দিয়েছেন ফারহান।
সোমবার তাঁর দেওয়া সেই পোস্টে অভিনেতা লিখেছেন, ‘আজ আমি আনাসকে বিদায় জানাচ্ছি। কোনোভাবে এই বিদায়টা আমার প্রত্যাশার চেয়েও বেশি ভারী লাগছে।’
গল্পের শুরু থেকেই আনাসের জীবন ছিল অত্যন্ত কঠিন। অসহায় এই তরুণ তার চাচা, চাচি এবং তাঁদের দুই সন্তানের দ্বারা নিয়মিত মানসিক, মৌখিক ও শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। পরিবারের প্রায় সব কাজ তাকেই করতে হয়েছে, যার ফলে তার পড়াশোনা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। এর পাশাপাশি অসুস্থ দাদার দেখাশোনার গুরুদায়িত্বও ছিল তার কাঁধে।
শৈশব ও কৈশোরের এই প্রতিকূল পরিবেশের কারণেই বড় হয়ে আনাস হয়ে ওঠে অত্যন্ত ভীতু ও চুপচাপ। নিজের ওপর অন্যায় হয়ে গেলেও সে কখনোই প্রতিবাদ করতে পারত না। তবে গল্পের মোড় ঘোরে যখন আত্মবিশ্বাসী ও দৃঢ়চেতা আনসার তার জীবনে আসেন এবং তাদের বিয়ে হয়। আনসারের সাহসের প্রভাবে ধীরে ধীরে বদলে যেতে থাকে আনাসও।
চরিত্রের এই বিবর্তনই দর্শকদের কাছে আনাসকে অনন্য করে তুলেছে। একজন নায়ক হতে হলে যে সবসময় আধিপত্য বিস্তার করতে হয়, আনাস চরিত্রটি যেন তার বিপরীতে এক উজ্জ্বল উদাহরণ। সংবেদনশীলতা, সততা এবং আত্মমর্যাদাও যে একজন পুরুষের প্রকৃত শক্তি হতে পারে, তা এই চরিত্রের মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
ফারহান সাঈদের কাছে আনাস কেবল একটি অভিনয় করা চরিত্র হয়ে থাকেনি, বরং এটি তার জন্য এক বিশেষ অভিজ্ঞতা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিদায়ী পোস্টে তিনি লিখেছেন, ‘আনাস আমাকে শিখিয়েছে, কখনো কখনো শক্তি পাল্টা লড়াইয়ে নয়, টিকে থাকার মধ্যে। আর কখনো কখনো নিজের জন্য নিজেকেই বেছে নেওয়াই সবচেয়ে সাহসী সিদ্ধান্ত।’
নাটকটির পরিচালক কাসিম আলী মুরিদসহ পুরো নির্মাণ দলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন ফারহান। সবশেষে আনাস চরিত্রের প্রতি ভালোবাসা জানিয়ে লিখেছেন, ‘বিদায়, আনাস। তোমাকে মিস করব।’