সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জে অত্যন্ত জরাজীর্ণ একটি ভবনে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম পরিচালনা করছেন কর্মরত স্বাস্থ্যকর্মীরা। দীর্ঘ সময় ধরে প্রয়োজনীয় সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে উপজেলার ধানগড়া ইউনিয়নের জয়ানপুর কমিউনিটি ক্লিনিকের ভবনটি বর্তমানে অত্যন্ত বেহাল অবস্থায় রয়েছে। ভবনের বিভিন্ন স্থানে বড় ধরনের ফাটল ও ক্ষয় দেখা দেওয়ায় চরম আতঙ্কের মধ্যে দায়িত্ব পালন করছেন সেখানে নিয়োজিত স্বাস্থ্যকর্মীরা। একই সঙ্গে এই ক্লিনিকে চিকিৎসাসেবা নিতে আসা রোগী এবং তাদের স্বজনদের মধ্যেও গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ধানগড়া ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডে জয়ানপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশেই অবস্থিত এই কমিউনিটি ক্লিনিকটি। ভবনটি দীর্ঘদিনের পুরোনো হওয়ায় এর বিভিন্ন অংশ জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। দেয়ালের বিভিন্ন স্থানে ফাটল ও ক্ষয়ের চিহ্ন স্পষ্ট। স্থানীয় বাসিন্দাদের আশঙ্কা, ভবনের এই নাজুক অবস্থার কারণে যেকোনো মুহূর্তে কোনো অংশ ধসে পড়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ক্লিনিক ভবনটির প্রয়োজনীয় সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণ করা হয়নি, যার ফলে ধীরে ধীরে এর অবস্থার আরও অবনতি হয়েছে। অথচ প্রতিদিন নারী, শিশু ও বয়স্কসহ এলাকার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এখানে চিকিৎসাসেবা নিতে ভিড় করেন। জরাজীর্ণ এই ভবনের কারণে তাদের নিরাপত্তা নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
চিকিৎসাসেবা নিতে আসা জয়ানপুর গ্রামের মো. জুয়েল রানা বলেন, “আমাদের গ্রামের কমিউনিটি ক্লিনিকটি অনেক পুরোনো। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না করায় ভবনের অবস্থা খুবই খারাপ হয়ে গেছে। যেকোনো সময় ভবনের কোনো অংশ ধসে পড়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। আমরা চাই, সরকার দ্রুত বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখে এলাকার মানুষের স্বাস্থ্যসেবার কথা বিবেচনা করে নতুন একটি ভবন নির্মাণের ব্যবস্থা করুক।”
স্থানীয় বাসিন্দা মো. সুলতান হোসেন বলেন, “জয়ানপুর কমিউনিটি ক্লিনিকটি দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় বর্তমানে ভবনটি জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সাধারণ মানুষকে এখানে চিকিৎসাসেবা নিতে হচ্ছে। স্বাস্থ্যকর্মীরাও ঝুঁকির মধ্যে দায়িত্ব পালন করছেন। যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তাই দ্রুত ভবনটি পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া এবং নতুন ভবন নির্মাণের দাবি জানাচ্ছি।”
জয়ানপুর কমিউনিটি ক্লিনিকের কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার (সিএইচসিপি) মোছা. দিলরুবা খাতুন বলেন, “ক্লিনিকের ভবনটি অনেক পুরোনো হওয়ায় বর্তমানে বেশ জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে। ভবনের বিভিন্ন স্থানে ফাটল ও ক্ষয় দেখা দিয়েছে। আমরা ঝুঁকি নিয়েই প্রতিদিন এলাকার মানুষকে স্বাস্থ্যসেবা দিয়ে যাচ্ছি। বিশেষ করে বৃষ্টি ও দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় আমাদের মধ্যে আতঙ্ক কাজ করে। ক্লিনিকটিতে প্রতিদিন অনেক রোগী সেবা নিতে আসেন। তাই রোগী ও স্বাস্থ্যকর্মীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে দ্রুত ভবনটি সংস্কার অথবা নতুন ভবন নির্মাণ করা প্রয়োজন।”
এই বিষয়ে জানতে রায়গঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলামের সঙ্গে মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তবে তিনি ফোন রিসিভ না করায় এ বিষয়ে তার কোনো বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।