ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার মধ্যকার চিরন্তন ফুটবল প্রতিদ্বন্দ্বিতা কখনোই লিওনেল মেসি এবং নেইমারের ব্যক্তিগত বন্ধুত্বের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি। ২০২১ সালে কোপা আমেরিকার ফাইনালে নিজের দেশ পরাজিত হওয়ার চরম মুহূর্তেও মারাকানা স্টেডিয়ামে মেসিকে পরম মমতায় জড়িয়ে ধরেছিলেন নেইমার। এবার আর্জেন্টিনার জার্সিতে প্রিয় বন্ধুর শেষ ম্যাচের আগে আবারও সেই হৃদ্যতাপূর্ণ সম্পর্কের বহিঃপ্রকাশ ঘটল নেইমারের কথায়।

মেসির বিদায়ী ম্যাচের প্রাক্কালে নেইমার মনে করিয়ে দিয়েছেন, শুধু আর্জেন্টিনা নয়, বরং ফুটবল বিশ্বের জন্য মেসি যা করেছেন, তার জন্য গোটা পৃথিবীই এই আর্জেন্টাইন তারকার কাছে কৃতজ্ঞ।

নিজের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে মেসির সঙ্গে কাটানো বিভিন্ন স্মরণীয় মুহূর্তের ছবি শেয়ার করে এই আবেগঘন বার্তাটি দিয়েছেন ব্রাজিলিয়ান তারকা।

নেইমার লিখেছেন, ‘যারা ফুটবল ভালোবাসে, তারা এত বছর ধরে তোমাকে উপভোগ করেছে। আজ তোমার দেশ ও জাতীয় দলের জার্সিতে শেষ ম্যাচ। আশা করি প্রতিটি সেকেন্ড তুমি উপভোগ করবে এবং আজ যত ভালোবাসা ও সম্মান পাবে, তা তোমাকে আনন্দ দেবে।’

এরপরই আসে তার বার্তার সবচেয়ে আবেগী অংশ।

‘শুধু আর্জেন্টিনা তোমাকে ধন্যবাদ জানাচ্ছে না, ফুটবলের জন্য তুমি যা করেছ, তার জন্য পুরো বিশ্ব তোমাকে ধন্যবাদ জানায়। ফুটবলকে আরও বেশি ভালোবাসতে শেখানোর জন্য তোমাকে ধন্যবাদ। তোমার বিপক্ষে খেলতে পারা আমার জন্য সম্মানের ছিল, আর তোমার পাশে ইতিহাস গড়তে পারাটা ছিল আরও বড় সম্মানের। ধন্যবাদ, লিওনেল মেসি।’

উল্লেখ্য, মেসি ও নেইমারের সম্পর্ক কেবল জাতীয় দলের দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী তারকার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। ২০১৩ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত বার্সেলোনায় একসঙ্গে খেলেছেন তারা। লুইস সুয়ারেজকে নিয়ে গড়া তাদের সেই বিখ্যাত আক্রমণভাগ বার্সাকে এনে দিয়েছিল একের পর এক সাফল্য, যার মধ্যে অন্যতম ছিল ২০১৫ সালের চ্যাম্পিয়নস লিগ জয়।

এরপর চার বছর বিরতির পর প্যারিস সেন্ট জার্মেইয়ে আবারও সতীর্থ হন এই দুই মহাতারকা। ২০২১ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত প্যারিসে একসঙ্গে খেলার পর তাদের পথ আলাদা হয়ে যায়।

জাতীয় দলের জার্সিতে অবশ্য বহুবার মুখোমুখি লড়াই করেছেন মেসি ও নেইমার। তাদের সবচেয়ে স্মরণীয় লড়াইগুলোর একটি ছিল ২০২১ সালের কোপা আমেরিকা ফাইনাল। মারাকানায় ব্রাজিলকে পরাজিত করে সেদিন আর্জেন্টিনার হয়ে প্রথম বড় আন্তর্জাতিক শিরোপা জিতেছিলেন মেসি। ম্যাচ শেষে পরাজয়ের তীব্র হতাশার মধ্যেও বন্ধুকে দীর্ঘ সময় জড়িয়ে রেখেছিলেন নেইমার।