প্রিয় আকাশি-সাদা জার্সিকে বিদায় জানানোর আর মাত্র কয়েক ঘণ্টা বাকি লিওনেল মেসির। আন্তর্জাতিক ফুটবল ক্যারিয়ারের এই চূড়ান্ত মুহূর্তে নিজের আবেগ ও অনুভূতি প্রকাশ করেছেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। প্রিয় জার্সিতে শেষবারের মতো মাঠে নামার আগে তিনি জানিয়েছেন, কোনো আক্ষেপ নয়, বরং এক ধরণের পূর্ণতার অনুভূতি নিয়েই তিনি বিদায় নিচ্ছেন।
বেনিনের বিপক্ষে তার এই বিদায়ী ম্যাচের আগে ক্রীড়াসামগ্রী প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান অ্যাডিডাসের একটি ভিডিও প্রকাশিত হয়। সেই ভিডিওতে মেসি বলেন, ‘সময়টা এসে গেছে। আমি শান্ত মনে বিদায় নিচ্ছি, সবটুকু দিয়েছি।’
আট বারের ব্যালন ডি’অর জয়ী এই তারকা ফুটবলার আর্জেন্টিনার জার্সির সঙ্গে তার দীর্ঘ সম্পর্কের কথা খুব অল্প কথায় ফুটিয়ে তুলেছেন। তার ভাষায়, ‘এই জার্সিটা ছিল আমার স্বপ্ন, আমার গর্ব এবং আমার জীবন। আমাকে এতটা ভালোবাসার জন্য ধন্যবাদ। তোমাদের খুব মিস করব।’
মেসির এই ঐতিহাসিক বিদায়কে স্মরণীয় করে রাখতে বিশেষ জার্সি তৈরি করেছে অ্যাডিডাস। প্রতিষ্ঠানটির প্রকাশিত ভিডিওর পাশাপাশি মেসি নিজেও তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সেই বিশেষ জার্সির ছবি শেয়ার করেছেন। সেখানে তিনি লিখেছেন, ‘শেষ ম্যাচ... সারাজীবনের জার্সি।’
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার রাত ৮টায় বুয়েনস আইরেসের মনুমেন্টাল স্টেডিয়ামে বেনিনের মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা। বাংলাদেশ সময় বুধবার ভোর ৫টায় শুরু হবে এই ম্যাচটি। জাতীয় দলের হয়ে এটি হবে মেসির ২০৮তম এবং সর্বশেষ ম্যাচ।
দীর্ঘ ২১ বছর আগে ২০০৫ সালে হাঙ্গেরির বিপক্ষে আন্তর্জাতিক ফুটবলে অভিষেক হয়েছিল তার। বিদায়ের এই মুহূর্তে ২০৭টি ম্যাচে ১২৫টি গোল করে আর্জেন্টিনার সর্বোচ্চ ম্যাচ খেলা এবং সর্বোচ্চ গোল করা ফুটবলার হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন তিনি।
তবে এই দীর্ঘ পথচলা কেবল সাফল্যের গল্প ছিল না। বিশ্বকাপ ও কোপা আমেরিকার একের পর এক ফাইনালে পরাজয়, এক পর্যায়ে জাতীয় দল ছাড়ার ঘোষণা এবং দীর্ঘ শিরোপা-অপেক্ষার কঠিন সময়গুলোও ছিল মেসির আর্জেন্টিনা অধ্যায়ের অবিচ্ছেদ্য অংশ।
অবশেষে ২০২১ সালে সেই দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটে। ব্রাজিলকে পরাজিত করে কোপা আমেরিকা জয়ের পর ২০২২ সালে ফিনালিসিমা এবং কাতার বিশ্বকাপ শিরোপা ওঠে তার হাতে। এরপর ২০২৪ সালে আরও একবার কোপা আমেরিকা জয় করেন তিনি।
তার শেষ আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট ছিল ২০২৬ বিশ্বকাপ, যেখানে তিনি আর্জেন্টিনাকে ফাইনালে নিয়ে যান। তবে স্পেনের কাছে হেরে দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপ জয়ের সুযোগ হারানোর কয়েক সপ্তাহ পরেই জাতীয় দল থেকে সরে দাঁড়ানোর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানান এই কিংবদন্তি ফুটবলার।