মাদারীপুরের কালকিনিতে পাঁচ বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগকে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। এই ঘটনার প্রতিবাদে উত্তেজিত জনতা অভিযুক্ত ব্যক্তির বসতবাড়িতে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছে। পরবর্তীতে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা আগুন নেভাতে সক্ষম হন।

গত সোমবার (৫ অক্টোবর) সন্ধ্যায় উপজেলার সাহেবরামপুর ইউনিয়নের মধ্যেরচর সাহেবরামপুর গ্রামে এই অপ্রীতিকর ঘটনাটি ঘটে।

স্থানীয় বাসিন্দা, ভুক্তভোগী পরিবার এবং পুলিশ সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, গত শুক্রবার (২ অক্টোবর) ওই গ্রামের পাঁচ বছর বয়সী এক শিশুকে বাড়িতে একা পেয়ে একই গ্রামের হাবুল শিকদার (৫৭) তাকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর মুহূর্তেই পুরো এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। স্থানীয়দের দাবি, ঘটনার পরপরই হাবুল শিকদার আত্মগোপন করেন।

ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, বিষয়টি নিয়ে থানায় মামলা না করে আপস-মীমাংসার মাধ্যমে নিষ্পত্তি করার জন্য বিভিন্ন প্রভাবশালী ব্যক্তির মাধ্যমে তাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছিল। এই অন্যায়ের প্রতিবাদে এবং অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবিতে সোমবার সন্ধ্যায় স্থানীয় প্রায় পাঁচ শতাধিক মানুষ ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে একটি ঝাড়ু মিছিল বের করেন।

মিছিল চলাকালীন একপর্যায়ে উত্তেজিত জনতা হাবুল শিকদারের বসতবাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর শুরু করে। পরবর্তীতে বাড়িটিতে অগ্নিসংযোগ করা হয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত কালকিনি থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এরপর কালকিনি উপজেলা ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা সেখানে পৌঁছে আগুন নেভানোর কাজ সম্পন্ন করেন।

ভুক্তভোগী শিশুটির বাবা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “হাবুল শিকদার আমার শিশুকন্যাকে ধর্ষণের চেষ্টা করেছেন। আমি বিচার চেয়েও বিচার পাইনি। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে এলাকাবাসী তার বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করেছে। আমি থানায় অভিযোগ করেছি।”

অন্যদিকে, এই গুরুতর অভিযোগের বিষয়ে হাবুল শিকদার এবং তার পরিবারের সদস্যদের বক্তব্য জানার চেষ্টা করা হলে তাদের বাড়িতে কাউকে পাওয়া যায়নি।

কালকিনি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জহিরুল আলম জানান, “খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। ঘটনার বিষয়ে তদন্ত চলছে।”