মাদারীপুরের কালকিনি এলাকায় যুবলীগ নেতা তাইজুল সরদারের হত্যাকাণ্ডের পর চরম উত্তেজনা ও সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। উপজেলার আলীনগর ইউনিয়নের কালিনগর ও টুমচর এলাকায় প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে অর্ধশতাধিক বসতবাড়িতে ভাঙচুর, লুটপাট এবং অগ্নিসংযোগের অভিযোগ উঠেছে। এই তাণ্ডবের সময় বেশ কয়েকবার বোমা বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে, যা স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। হামলা ও অগ্নিসংযোগের এই ভয়াবহ পরিস্থিতির কারণে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন ওই এলাকার সাধারণ মানুষ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার (২৬ অক্টোবর) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত এই সহিংস কর্মকাণ্ড চলে। ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িগুলোর তালিকায় সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মিলন সরদারের বাড়িও রয়েছে বলে জানা গেছে।
নিহত তাইজুল সরদার মাদারীপুর সদর উপজেলার ঝাউদি ইউনিয়নের কুলপদ্দী গ্রামের মৃত রুস্তম সরদারের পুত্র। তিনি মাদারীপুর সদর উপজেলা যুবলীগের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা যায়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দীর্ঘ দিন ধরে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল। এই বিরোধের ধারাবাহিকতায় গত ২২ অক্টোবর সকালে তাইজুল সরদার বোরকা পরে মিলন সরদার ও তার অনুসারীদের ওপর হামলার উদ্দেশ্যে সেখানে এসেছিলেন বলে স্থানীয়রা দাবি করেছেন। তবে স্থানীয়দের প্রতিরোধে তিনি ব্যর্থ হন এবং ওই ঘটনায় তাইজুল সরদার নিহত হন। তার মৃত্যুর পর থেকেই এলাকায় চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছিল। এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত প্রতিপক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে বিভিন্ন বাড়িতে হামলা চালায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের দেওয়া তথ্যানুসারে, হামলার সময় বেশ কয়েকবার বোমা বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। এরপর একের পর এক বসতবাড়িতে ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। কয়েকটি বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হলে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ঘরবাড়ি ও মালামালের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো চরম উদ্বেগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।
ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন। কালকিনি থানা পুলিশও এলাকাটি পরিদর্শন করেছে। বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ওই এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাহাঙ্গীর আলম এ বিষয়ে বলেন, “পুলিশ সুপারের সঙ্গে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। তাইজুল সরদার হত্যাকাণ্ডের জের ধরে প্রতিপক্ষ এই হামলা চালিয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। বর্তমানে কোনো মামলা দায়ের না হলেও আমাদের নিজস্ব তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”