দক্ষিণ কোরিয়ার চলচ্চিত্র অঙ্গনের অত্যন্ত সুপরিচিত প্রতিষ্ঠান বুসান এশিয়ান ফিল্ম স্কুল। চলচ্চিত্র নির্মাণ, প্রযোজনা এবং আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র বাজারের সাথে নিবিড়ভাবে পরিচিত হয়ে নিজেদের ক্যারিয়ারকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার জন্য এই স্কুলে ভর্তির সুযোগ রয়েছে। বর্তমানে এই স্কুলের অধীনে পরিচালিত ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম বিজনেস একাডেমিতে ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের প্রডিউসিং ট্র্যাকে ভর্তির জন্য যোগ্য ও উদীয়মান চলচ্চিত্র নির্মাতাদের কাছ থেকে আবেদন গ্রহণ করা হচ্ছে।

ভর্তির বিস্তারিত তথ্য
এশিয়ার বিভিন্ন দেশ থেকে আন্তর্জাতিক মানের চলচ্চিত্র পেশাজীবী ও নির্মাতাদের একত্রিত করে একটি বৈশ্বিক চলচ্চিত্র বাজার গড়ে তোলার দীর্ঘ ঐতিহ্য রয়েছে এই একাডেমির। আগ্রহী প্রার্থীদের আগামী ১১ নভেম্বর ২০২৬ তারিখ পর্যন্ত ভর্তির আবেদন করার সুযোগ থাকছে। চলচ্চিত্র প্রযোজনা এবং আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র ব্যবসার সূক্ষ্ম কলাকৌশলগুলো রপ্ত করার জন্য এটি এশিয়ার অন্যতম সেরা একটি প্ল্যাটফর্ম হিসেবে বিবেচিত। এই স্কুলে বর্তমানে পড়াশোনা করছেন বাংলাদেশের তরুণ চলচ্চিত্র নির্মাতা রাকা নোশিন নাওয়ার। তিনি মুক্তকণ্ঠকে বলেন, “বুসান এশিয়ান ফিল্ম স্কুলের ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম বিজনেস একাডেমিতে প্রডিউসিং ট্র্যাকে পড়ার সুযোগ পাওয়া যেকোনো চলচ্চিত্র নির্মাতার জন্য দারুণ সুযোগ। আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র বাজারের সঙ্গে পরিচিত হওয়া, বৈশ্বিক নেটওয়ার্ক তৈরি এবং বিশ্বমানের প্রোডাকশন কৌশল শেখার ক্ষেত্রে এই সাত মাসের আবাসিক কোর্সটি এক অসাধারণ প্ল্যাটফর্ম। সম্পূর্ণ টিউশন ফি মওকুফ, আবাসন এবং চমৎকার লার্নিং পরিবেশ একজন তরুণ প্রযোজককে বিশ্বমঞ্চে নিজেদের মেলে ধরতে সবচেয়ে বেশি সাহায্য করবে। এশিয়ার চলচ্চিত্রশিল্পে নিজের পেশাগত দক্ষতা ও নেতৃত্বকে অনন্য এক উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার জন্য এই সুযোগটি সত্যিই অতুলনীয়।”

কোর্সের গঠন ও বৈশিষ্ট্য
এই কোর্সের মেয়াদ এবং কাঠামোগত সুযোগ-সুবিধাগুলো অত্যন্ত আকর্ষণীয় এবং পেশাজীবীবান্ধব। আগামী ২০২৭ সালের মার্চ থেকে অক্টোবর পর্যন্ত মোট ৯ মাসব্যাপী এই আবাসিক কোর্সটি পরিচালিত হবে। এই সময়ের মধ্যে দুটি সেমিস্টার এবং চার সপ্তাহের একটি অবকাশকালীন ছুটি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ২০২৭ সালের এই সেশনে মোট ২০ জন শিক্ষার্থীকে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত করা হবে। আবেদনকারীকে অবশ্যই এশিয়ার যেকোনো একটি যোগ্য দেশ বা অঞ্চলের বৈধ পাসপোর্টের অধিকারী হতে হবে। উল্লেখ্য যে, এই কোর্সে আবেদনের জন্য নির্দিষ্ট কোনো প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাগত ডিগ্রি কিংবা বয়সের কোনো কড়াকড়ি বা সীমাবদ্ধতা নেই। তবে যেহেতু সম্পূর্ণ কোর্স এবং একাডেমিক কার্যক্রম ইংরেজিতে পরিচালিত হবে, তাই আবেদনকারীদের ইংরেজিতে দক্ষ ও সাবলীল হওয়া আবশ্যক। আবেদনের সময় প্রার্থীকে নিজের একটি ফিচার ফিল্ম প্রজেক্ট নিয়ে পিচ করতে হয়। ভর্তির পর সাত মাস ওই আইডিয়া নিয়ে কাজ করার সুযোগ পাওয়া যায় এবং পরবর্তীতে তা বিভিন্ন বুসান ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টে পিচ করার সুযোগ থাকে।

বৃত্তি ও আর্থিক সুবিধা
নির্বাচিত ফেলোদের জন্য বুসান এশিয়ান ফিল্ম স্কুলের পক্ষ থেকে অত্যন্ত আকর্ষণীয় আর্থিক প্রণোদনা ও সুযোগ-সুবিধা প্রদান করা হয়। এর মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য সুবিধা হলো সম্পূর্ণ টিউশন ফি স্কলারশিপের মাধ্যমে মওকুফ করা। এছাড়া নন-কোরিয়ান ফেলোদের যাতায়াতের সুবিধার্থে বিমান ভাড়ার অর্থ ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। পুরো শিক্ষা কার্যক্রম এবং অবকাশকালীন ছুটির সময়জুড়ে শিক্ষার্থীদের জন্য ডরমিটরিতে আবাসনের সুব্যবস্থা করা হয়। পাশাপাশি নন-কোরিয়ান ফেলোদের জন্য সীমিত কভারেজসহ প্রাইভেট এবং পরবর্তী সময়ে ন্যাশনাল হেলথ ইনস্যুরেন্সের মাধ্যমে চিকিৎসা বিমার সুবিধা দেওয়া হয়। তবে ভিসার আবেদন, ব্যাংক সলভেন্সি এবং প্রথম দুই মাসের ভ্রমণ বিমাসংক্রান্ত কিছু নিজস্ব প্রস্তুতি ফেলোদের নিজেদেরই সম্পন্ন করতে হয়।

আবেদনের প্রক্রিয়া
ভর্তি ইচ্ছুক আগ্রহী প্রার্থীরা বুসান এশিয়ান ফিল্ম স্কুলের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট (www.afis.ac) অথবা তাদের অফিশিয়াল সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে অনলাইনে আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারবেন। এশিয়ার চলচ্চিত্রশিল্পে একজন আন্তর্জাতিক প্রডিউসার হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করার জন্য এটি একটি চমৎকার সুযোগ।