ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে একটি বাড়ির টিনের চালের ওপর গ্রেনেডের মতো দেখতে একটি বস্তু পড়ে থাকায় এলাকায় তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বিষয়টি জানাজানি হতেই দ্রুত পদক্ষেপ নেয় পুলিশ এবং ওই এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়। পরবর্তীতে এন্টি টেরোরিজম ইউনিটের বম্ব ডিসপোজাল দল বস্তুটি উদ্ধার করে। তবে বিস্তারিত পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর জানা গেছে, বস্তুটি কোনো বিস্ফোরক ছিল না, বরং সেটি ছিল একটি চাইনিজ খেলনা গ্রেনেড।

গত সোমবার (৫ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের হাসনাবাদ বড়ইতলা এলাকায় স্থানীয় বাসিন্দারা প্রথম ওই রহস্যময় বস্তুটি দেখতে পান। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বস্তুটির আকৃতি অনেকটা আসল গ্রেনেডের মতো হওয়ায় তারা চরম আতঙ্কিত হয়ে পড়েন এবং দ্রুত পুলিশকে বিষয়টি অবহিত করেন।

খবর পাওয়ার পরপরই দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। নিরাপত্তার স্বার্থে তারা বাড়িটির বাসিন্দাদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়। একই সঙ্গে পুরো এলাকাটি ঘিরে ফেলে একটি শক্ত নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়। সম্ভাব্য ঝুঁকির কথা মাথায় রেখে পুলিশ কাউকে ওই বস্তুটির কাছাকাছি ঘেঁষতে দেয়নি।

পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে বিষয়টি এন্টি টেরোরিজম ইউনিটের বম্ব ডিসপোজাল দলকে জানানো হয়। সোমবার বিকেল সাড়ে চারটার দিকে বম্ব ডিসপোজাল দলের সদস্যরা ঘটনাস্থলে এসে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে বস্তুটি উদ্ধার করেন।

কেরানীগঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জামিলুর রহমান বলেন, “প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, আশপাশের কোনো বাড়ির শিশুরা খেলতে গিয়ে খেলনা গ্রেনেডটি টিনের চালে ছুড়ে ফেলেছিল। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর নিশ্চিত হওয়া গেছে, এটি কোনো ধরনের বিস্ফোরক নয়।”

তিনি অভিভাবকদের প্রতি সতর্কবার্তা দিয়ে আরও বলেন, “বাস্তব গ্রেনেডের আদলে তৈরি এ ধরনের খেলনা শিশুদের হাতে না দেওয়ার বিষয়ে অভিভাবকদের সচেতন থাকা উচিত। কারণ এসব খেলনা জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করতে পারে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকেও বিভ্রান্তিকর পরিস্থিতির মুখে ফেলতে পারে।”