বুড়িগঙ্গা নদীর মারাত্মক দূষণ রোধে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে পরিবেশ অধিদপ্তর। কেরানীগঞ্জে এক বিশেষ অভিযান চালিয়ে ১০টি অবৈধ ওয়াশিং ও ডাইং কারখানার বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। পরিবেশগত ছাড়পত্র ছাড়াই এসব কারখানা পরিচালিত হচ্ছিল এবং বর্জ্য শোধনাগার বা ইটিপি (Effluent Treatment Plant) ছাড়াই সরাসরি নদীতে তরল বর্জ্য ফেলার অভিযোগে এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

সোমবার (২ নভেম্বর) সকালে কেরানীগঞ্জের কালিগঞ্জ-আগানগর এলাকায় এই অভিযান চালানো হয়। পরিবেশ অধিদপ্তরের মনিটরিং অ্যান্ড এনফোর্সমেন্ট শাখার পরিচালক মাহবুব জামিলের নেতৃত্বে পরিচালিত এই অভিযানে ঢাকা জেলা প্রশাসন, বাংলাদেশ নৌবাহিনী, নৌপুলিশ, কোস্টগার্ড, পুলিশ, বিআইডব্লিউটিএ, ডিপিডিসি এবং স্থানীয় সরকার কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধিরা সমন্বিতভাবে অংশ নেন।

পরিবেশ অধিদপ্তরের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, অভিযানে চিহ্নিত ১০টি কারখানার কোনোটির কাছেই প্রয়োজনীয় পরিবেশগত ও অবস্থানগত ছাড়পত্র ছিল না। এছাড়া এসব কারখানা ইটিপি ব্যবহার না করে সরাসরি নদীতে বিষাক্ত তরল বর্জ্য নিষ্কাশন করছিল, যা নদীর বাস্তুসংস্থানের জন্য চরম হুমকিস্বরূপ।

অভিযান শেষে পরিচালক মাহবুব জামিল বলেন, “বুড়িগঙ্গা, তুরাগ, বালু ও ধলেশ্বরী নদী দূষণের অন্যতম কারণ এসব অপরিকল্পিত শিল্পকারখানা। নদীগুলো দূষণমুক্ত রাখতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের উদ্যোগে গঠিত কেন্দ্রীয় কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এ অভিযান চালানো হচ্ছে।”

তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, গত দেড় মাস ধরে শ্যামপুর এলাকা থেকে প্রস্তুতিমূলক ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম শুরু করা হয়েছিল এবং নভেম্বর মাস থেকে এই অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে। তিনি জানান, অভিযুক্ত কয়েকটি কারখানার বিদ্যুৎ সংযোগ এর আগেও বিচ্ছিন্ন করা হয়েছিল, কিন্তু মালিকরা ভিন্ন নামে পুনরায় সংযোগ নিয়ে পুনরায় কারখানা চালু করেছিলেন।

জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি নিয়ে মাহবুব জামিল বলেন, “এসব কারখানার অনেকগুলোই ঘনবসতিপূর্ণ আবাসিক এলাকায় অবস্থিত, যার আশপাশে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও শিশুদের উপস্থিতি রয়েছে। ফলে এগুলো জনস্বাস্থ্যের জন্যও মারাত্মক হুমকি তৈরি করছে।”

পরিচালক আরও জানান, যে ১০টি প্রতিষ্ঠান বন্ধ করা হয়েছে, তাদের মালিকদের নাম, জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর ও মোবাইল নম্বরসহ বিস্তারিত তথ্য সংশ্লিষ্ট সেবা সংস্থাগুলোর কাছে পাঠানো হবে। এর ফলে তারা যেন পুনরায় অবৈধভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ নিতে না পারে, তা নিশ্চিত করা হবে। বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার পরও যদি কেউ বেআইনিভাবে কারখানা চালু রাখার চেষ্টা করেন, তবে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পরিবেশ রক্ষায় এই ধরনের অভিযান আগামীদিনেও অব্যাহত থাকবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।