মুক্তকণ্ঠ ডিজিটালে অবৈধ রং কারখানার কারণে সৃষ্ট পরিবেশ দূষণ এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের চরম দুর্ভোগ নিয়ে একটি ভিডিও প্রতিবেদন প্রচারিত হয়। এই প্রতিবেদনের পর দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করে ঢাকার ধামরাইয়ে দুটি অবৈধ রং কারখানায় অভিযান পরিচালনা করেছে উপজেলা প্রশাসন। এই অভিযানের ফলে কারখানা দুটির যাবতীয় কার্যক্রম অবিলম্বে বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি একটি কারখানাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
গত মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) দুপুরে ধামরাই উপজেলা সদর ইউনিয়নের শরীফবাগ এবং পৌরসভার আইঙ্গন এলাকায় অবস্থিত কারখানা দুটিতে এই অভিযান চালানো হয়। পুরো অভিযানটি নেতৃত্ব দেন ধামরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ আল মামুন এবং তাঁর সাথে ছিল ভ্রাম্যমাণ আদালত।
প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, ধামরাইয়ের জনবহুল লোকালয় ও আবাসিক এলাকায় পরিবেশ অধিদপ্তরের প্রয়োজনীয় ছাড়পত্র ছাড়াই অত্যন্ত ক্ষতিকর রাসায়নিক উপাদান ব্যবহার করে কালি তৈরি করা হচ্ছিল। মঙ্গলবার সকালে মুক্তকণ্ঠ ডিজিটালে ‘লোকালয়ে অবৈধ রং কারখানা, দূষণে অতিষ্ঠ মানুষ’ শিরোনামে একটি ভিডিও প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনের নজরে আসে। প্রতিবেদনটি প্রকাশের পরপরই প্রশাসন সক্রিয় হয়ে কারখানা দুটিতে অভিযান চালায়।
অভিযান চলাকালীন কারখানা দুটির সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা তাদের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য কোনো বৈধ লাইসেন্স বা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখাতে ব্যর্থ হন। এর পরিপ্রেক্ষিতেই কারখানা দুটির কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়। এর মধ্যে একটি কারখানাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। অন্যদিকে, অন্য কারখানাটিতে অভিযান চলাকালীন উৎপাদন বন্ধ থাকায় সেটিকে সিলগালা করে বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে।
পুরো অভিযানের বিষয়ে ইউএনও মোহাম্মদ আল মামুন বলেন, “গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর আমরা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে আমলে নিই। আবাসিক এলাকায় বৈধ কাগজপত্র ছাড়াই পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণভাবে কারখানাগুলো চলছিল।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা তাৎক্ষণিকভাবে এগুলোর কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ দিয়েছি এবং একটিকে জরিমানা করেছি। জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর এমন যেকোনো অবৈধ প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আমাদের কঠোর অবস্থান ও অভিযান অব্যাহত থাকবে।”