আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের মাঠ থেকে খেলোয়াড় হিসেবে বিদায় নিয়েছেন পাকিস্তানের অভিজ্ঞ পেসার কাইনাত ইমতিয়াজ। তবে ক্রিকেট অঙ্গন থেকে পুরোপুরি দূরে সরে যাচ্ছেন না তিনি। দীর্ঘ ১৩ বছরের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ইতি টেনে এবার ম্যাচ রেফারি হিসেবে নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা করেছেন কাইনাত। মজার ব্যাপার হলো, এই নতুন পথটি তার পরিবারের জন্য একেবারেই নতুন নয়; বরং তার মা সালিমা ইমতিয়াজ আগেই পাকিস্তান ক্রিকেটে ম্যাচ অফিসিয়াল হিসেবে অনন্য ইতিহাস তৈরি করেছেন।

রোববার আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসরের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন ৩৪ বছর বয়সী কাইনাত। পাকিস্তানের জাতীয় দলের হয়ে তিনি ১৯টি ওয়ানডে এবং ২১টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচে অংশগ্রহণ করেছেন।

অবশ্য অবসরের কথা জানানোর আগেই নতুন দায়িত্ব পালনে নেমেছিলেন তিনি। আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসে করাচিতে আয়োজিত পিসিবি জাতীয় নারী অনূর্ধ্ব-১৯ টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টে ম্যাচ রেফারির দায়িত্ব পালন করেছেন কাইনাত। ক্রিকেট মাঠে তার এই নতুন পরিচয়ের পেছনে বড় অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করেছে তার মায়ের জীবনযুদ্ধ ও সাফল্য।

কাইনাতের মা সালিমা ইমতিয়াজ ২০২৪ সালে আইসিসির ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট প্যানেলে অন্তর্ভুক্ত হয়ে পাকিস্তানের প্রথম নারী আম্পায়ার হিসেবে ইতিহাস গড়েছেন। ২০০৮ সালে পিসিবির নারী আম্পায়ারিং প্যানেলে তার যাত্রা শুরু হয়। এখন পর্যন্ত তিনি ৯টি নারী ওয়ানডে এবং ৬৯টি নারী টি-টোয়েন্টি ম্যাচে আম্পায়ারিং করেছেন।

সালিমা ইমতিয়াজের সাফল্যের তালিকা এখানেই শেষ নয়। চলতি বছর তিনি প্রথম পাকিস্তানি নারী হিসেবে নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ম্যাচ পরিচালনার দায়িত্ব পেয়ে আরও একটি মাইলফলক স্পর্শ করেছেন। মায়ের সেই পথ ধরেই এবার ভিন্ন এক ভূমিকায় যোগ দিলেন কাইনাত। যেখানে মা দায়িত্ব পালন করছেন আম্পায়ার হিসেবে, সেখানে মেয়ে কাইনাত বেছে নিয়েছেন ম্যাচ রেফারির পথ।

খেলোয়াড় হিসেবে কাইনাতের আন্তর্জাতিক যাত্রা শুরু হয়েছিল ২০১০ সালের অক্টোবরে। দক্ষিণ আফ্রিকার পচেফস্ট্রুমে টি-টোয়েন্টি ম্যাচের মাধ্যমে তার অভিষেক হয়। এর পরের বছর বাংলাদেশের ফতুল্লায় আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে তিনি প্রথম ওয়ানডে ম্যাচ খেলেন। ডানহাতি এই পেসার ওয়ানডেতে ১০টি এবং টি-টোয়েন্টিতে ৮টি উইকেট নিয়ে তার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার শেষ করেছেন।

পরিসংখ্যানের চেয়েও কাইনাতের ক্যারিয়ারে বড় হয়ে আছে কিছু বিশেষ টুর্নামেন্ট। ২০১০ এবং ২০১৪ সালের এশিয়ান গেমসে স্বর্ণজয়ী পাকিস্তান নারী দলের সদস্য ছিলেন তিনি। এছাড়া ২০১৭ সালের নারী ওয়ানডে বিশ্বকাপে চারটি ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে তার। ২০২২ সালের কমনওয়েলথ গেমসের পাকিস্তান দলেও তিনি ছিলেন অন্যতম সদস্য।

জাতীয় দলের জার্সিতে তার শেষ টি-টোয়েন্টি ম্যাচটি খেলেছিলেন বাংলাদেশে। ২০২২ সালের অক্টোবরে সিলেটের মাঠে থাইল্যান্ডের বিপক্ষে সেই ম্যাচটি ছিল তার শেষ টি-টোয়েন্টি। সবশেষ ওয়ানডে ম্যাচটি খেলেছেন ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে ব্রিসবেনের গ্যাবায় অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে। এরপর প্রায় চার বছর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আর তার ফেরা হয়নি।

এই দীর্ঘ সময়ে তার ব্যক্তিগত জীবনেও এসেছে বড় পরিবর্তন। ২০২৪ সালের জুনে এক কন্যাসন্তানের মা হন কাইনাত। এখন পরিবার এবং ক্রিকেট—এই দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রেখে মাঠের সাথে যুক্ত থাকার জন্য তিনি বেছে নিয়েছেন এই নতুন পেশাদার পথ।