পাকিস্তানের ক্রিকেট অঙ্গনে হঠাৎ করেই আলোচনায় এসেছেন এক বিস্ময়কর প্রতিভা, যার নাম শুনলে যে কেউ চমকে উঠবেন। তার নাম অ্যাডাম গিলক্রিস্ট। নাম শুনে হয়তো আপনার মনে হতে পারে অস্ট্রেলিয়ার কিংবদন্তি ক্রিকেটার অ্যাডাম গিলক্রিস্ট কি পুনরায় পাকিস্তানের হয়ে মাঠে নামছেন? তবে বিষয়টি তেমন নয়। এই গিলক্রিস্ট অস্ট্রেলিয়ার নন, বরং পাকিস্তানের একজন কিশোর ক্রিকেটার। তবে এই কিশোরের নামের পেছনে লুকিয়ে আছে এক চমৎকার গল্প।

কীভাবে এই পাকিস্তানি কিশোরের নাম হলো অ্যাডাম গিলক্রিস্ট?
জানা গেছে, তার মা তার নাম রেখেছিলেন ‘অ্যাডাম’। কিন্তু ক্রিকেটপ্রেমী বাবা সেই নামের সাথে যুক্ত করে দিয়েছেন ‘গিলক্রিস্ট’ শব্দটি। স্পষ্টতই বোঝা যায়, তার বাবা অস্ট্রেলিয়ান কিংবদন্তি গিলক্রিস্টের একজন অন্ধ ভক্ত। তবে কেবল নামেই মিল নেই, খেলার ধরনেও দেখা গেছে অদ্ভুত সাদৃশ্য। অস্ট্রেলিয়ান কিংবদন্তির মতোই পাকিস্তানের এই অ্যাডাম গিলক্রিস্ট একজন বাঁহাতি ব্যাটসম্যান এবং একই সাথে উইকেটকিপার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

তবে একটি জায়গায় মিল নেই। পাকিস্তানি এই কিশোরের ক্রিকেটীয় আদর্শ হিসেবে তিনি মনে করেন শ্রীলঙ্কান কিংবদন্তি কুমার সাঙ্গাকারাককে। সম্প্রতি নিজের নামের ইতিহাস এবং প্রিয় ক্রিকেটার সম্পর্কে তার দেওয়া একটি বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক ভাইরাল হয়েছে।

বর্তমানে কোথায় খেলছেন এই কিশোর গিলক্রিস্ট?
পাকিস্তানের এই অ্যাডাম গিলক্রিস্ট বর্তমানে স্কুল ক্রিকেটে দাপট দেখাচ্ছেন। সম্প্রতি করাচিতে স্কুল ক্রিকেটের একটি ম্যাচে ব্যাট হাতে রীতিমতো ঝড় তুলেছেন তিনি। পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) আয়োজিত ট্যালেন্ট হান্ট স্কুল ক্রিকেট চ্যাম্পিয়নশিপ অনূর্ধ্ব-১৭ টুর্নামেন্টে কামরান পাবলিক স্কুলের হয়ে খেলছেন এই কিশোর।

জিন্নাহ কলেজে অনুষ্ঠিত একটি ম্যাচে হ্যাপি প্যালেস গ্রামার স্কুল, করাচির বিপক্ষে ১০৮ বলে ১১৭ রানের এক দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন এই বাঁহাতি উইকেটকিপার-ব্যাটসম্যান। তার এই সেঞ্চুরির ওপর ভর করে নির্ধারিত ৪০ ওভারে ৪ উইকেটে ২৯৭ রানের বিশাল সংগ্রহ গড়ে তোলে কামরান পাবলিক স্কুল। দলের মোট সংগ্রহের প্রায় ৩৯ শতাংশ রানই এসেছে তার ব্যাট থেকে। শেষ পর্যন্ত প্রতিপক্ষকে ১৭২ রানের এক বিশাল ব্যবধানে পরাজিত করে তার দল।

গিলক্রিস্ট এবং সাঙ্গাকারার প্রভাব
ক্রিকেট বিশ্বের দুই কিংবদন্তির প্রভাব এই কিশোরের ওপর স্পষ্ট। অ্যাডাম গিলক্রিস্ট অস্ট্রেলিয়ার হয়ে ৯৬টি টেস্ট ম্যাচ খেলেছেন, যেখানে তার রান ৫ হাজার ৫৭০। ১৯৯৯, ২০০৩ এবং ২০০৭ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিশ্বকাপজয়ী দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন তিনি। বিশেষ করে তার আক্রমণাত্মক ব্যাটিং এবং দ্রুত ম্যাচের গতি বদলে দেওয়ার ক্ষমতার জন্য তিনি বিশ্বজুড়ে পরিচিত ছিলেন।

অন্যদিকে, শ্রীলঙ্কার সাবেক অধিনায়ক কুমার সাঙ্গাকারা টেস্ট ক্রিকেটে ১২ হাজার ৪০০ রান এবং ৩৮টি সেঞ্চুরি করার রেকর্ড গড়েছেন। একজন অত্যন্ত দক্ষ উইকেটকিপার হিসেবেও তিনি ক্রিকেট ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে আছেন।