প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগের জন্য সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েও ভিটেবাড়ি না থাকার কারণে নিয়োগপত্র পাননি মিশন আচার্য। তাঁর এই মানবিক সমস্যা নিরসনে উদ্যোগ নিয়ে নিয়োগ প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। আজ রোববার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাজনৈতিক সহকারী মো. রাশেদ খাঁন মিশন আচার্যকে সঙ্গে নিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রীর কার্যালয়ে গিয়ে সাক্ষাৎ করেন এবং মিশনের পক্ষে একটি ডিও লেটার (আধা সরকারিপত্র) প্রদান করেন। এই সাক্ষাতের পরপরই শিক্ষামন্ত্রী তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ফোন করে মিশন আচার্যের নিয়োগের বিষয়টি চূড়ান্ত করার নির্দেশনা দেন।
আজ দুপুরে রাশেদ খাঁন মিশন আচার্যকে নিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে যান। উল্লেখ্য, রাশেদ খাঁন এবং মিশন আচার্য উভয়েই ঝিনাইদহ জেলার বাসিন্দা। মিশনের পক্ষে শিক্ষামন্ত্রীর নিকট পেশ করা ডিও লেটারে রাশেদ খাঁন লিখেছেন, ‘আমি আমার নিজ জেলা ঝিনাইদহের সদর উপজেলার স্থায়ী বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানতে পেরেছি, মিশন আচার্য ঝিনাইদহ সদর উপজেলার কলাবাগান নামক স্থানে জন্মলগ্ন থেকে বসবাস করছেন। তিনি এই এলাকাতেই জন্মগ্রহণ করেছেন বলে নিশ্চিত হয়েছি এবং আজ অবধি এই এলাকাতেই ভাড়া বাসায় বসবাস করছেন।’
রাশেদ খাঁনের ওই ডিও লেটারে আরও উল্লেখ করা হয়, ‘ছোটবেলা থেকে মিশন আচার্য পিতৃহীন হিসেবে বড় হয়েছেন। তবে তাঁর গর্ভধারিণী মা তাঁকে অনেক কষ্ট করে পড়াশোনা শিখিয়েছেন। তিনি ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স ও ব্যাংকিং বিভাগ থেকে পড়াশোনা সম্পন্ন করে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা-২০২৫–এ যথাযথভাবে উত্তীর্ণ হয়েছেন। আমার পাওয়া তথ্যমতে, মিশন আচার্য অত্যন্ত ভদ্র ছেলে। এলাকায় তাঁর বিরুদ্ধে কোনো নেতিবাচক সংবাদ শোনা যায়নি। এসব বিষয় ও মানবিক বিবেচনায় বিধি অনুযায়ী আমার এলাকার সন্তান মিশন আচার্যের নিয়োগপত্র দিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বিনীতভাবে অনুরোধ করছি।’
রাশেদের পক্ষ থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বার্তায় জানানো হয়েছে, আজ বেলা দুইটায় তিনি মিশন আচার্যকে সঙ্গে নিয়ে সচিবালয়ে শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। বার্তায় আরও বলা হয়, ‘শিক্ষামন্ত্রী তাৎক্ষণিক সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কল করে মিশন আচার্যের নিয়োগের বিষয়টি চূড়ান্ত করার নির্দেশনা দেন।’
জানা গেছে, মিশন আচার্য ঝিনাইদহ শহরের একটি ভাড়া বাসায় পরিবারের সঙ্গে থাকেন। তাঁর মা অন্যের বাড়িতে গৃহপরিচারিকার কাজ করে তাঁকে পড়াশোনা করিয়েছেন। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক (সম্মান) ও স্নাতকোত্তর শেষ করার পর তিনি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে চাকরির পরীক্ষায় অংশ নেন। পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে তিনি চাকরির সুপারিশপ্রাপ্ত হলেও নিজেদের কোনো ভিটেবাড়ি না থাকায় নিয়োগপত্র পাননি। তাঁর সঙ্গে সুপারিশপ্রাপ্ত আরও ১৮২ জনের মধ্যে ১৮০ জন ইতিমধ্যে নিয়োগপত্র পেয়ে গত বৃহস্পতিবার কাজে যোগদান করেছেন। তবে নিয়োগপত্র না পাওয়ায় মিশন আচার্য যোগদান করতে পারেননি। সম্প্রতি এই বিষয়টি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর তা সামনে আসে।