নিজস্ব ভিটেবাড়ি না থাকার কারণে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগপত্র পাননি মিশন আচার্য। অবশেষে তাঁর নিয়োগের পথ প্রশস্ত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন আজ শুক্রবার রাতে মুঠোফোনে মুক্তকণ্ঠকে এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন।

রাশেদ খাঁন জানান, মুক্তকণ্ঠ পত্রিকার অনলাইন সংস্করণে প্রকাশিত সংবাদটি তাঁর ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নজরে এসেছে। মিশন আচার্য তাঁর নিজ এলাকার ছেলে। সংবাদটি দেখার পরপরই তিনি শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করেন।

নিয়োগ প্রক্রিয়ার জটিলতা ব্যাখ্যা করে রাশেদ খাঁন বলেন, "অনেকে ঠিকানা গোপন করে চাকরি নেন। পরে বিষয়টি নিয়ে নানা জটিলতা দেখা দেয়। এ কারণে চাকরি প্রার্থীদের যাচাই–বাছাই করা হয়ে থাকে। মিশন আচার্যের ক্ষেত্রেও সেটি করতে গিয়ে স্থায়ী ঠিকানার বিষয়ে জটিলতা দেখা দিয়েছে।"

প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী আরও জানান, ইতিমধ্যে মিশন আচার্যের সঙ্গে তাঁর কথা হয়েছে এবং তাঁকে ঢাকায় আসার অনুরোধ করা হয়েছে। আগামী রোববার তাঁকে সঙ্গে নিয়ে তিনি মন্ত্রণালয়ে যাবেন, যেখানে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে নিয়োগের ব্যবস্থা করা হবে।

উল্লেখ্য, মিশন আচার্য ঝিনাইদহ শহরের একটি ভাড়া বাসায় পরিবারের সঙ্গে থাকেন। তাঁর মা ময়না আচার্য অন্যের বাড়িতে গৃহপরিচারিকার কাজ করে তাঁকে পড়াশোনা করিয়েছেন। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক (সম্মান) ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করে তিনি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে চাকরির পরীক্ষায় অংশ নেন এবং সুপারিশপ্রাপ্ত হন।

সুপারিশপ্রাপ্ত মোট ১৮২ জনের মধ্যে ১৮০ জন ইতিমধ্যে নিয়োগপত্র পেয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার যোগদান করেছেন। কিন্তু স্থায়ী ভিটেবাড়ি না থাকায় মিশন আচার্য নিয়োগপত্র পাননি এবং যোগদান করতে পারেননি। এই বিষয়টি নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করে মুক্তকণ্ঠ।

নিজের চাকরি নিশ্চিত হওয়ার খবরে আনন্দিত মিশন আচার্য বলেন, "প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন তাঁর সঙ্গে কথা বলেছেন। তাঁকে ঢাকায় যেতে বলেছেন। তাঁর চাকরি হবে জানিয়ে মন্ত্রণালয়ে নিয়ে যাওয়ার কথাও বলেছেন।"

সংবাদপত্রের পাশে থাকার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি বলেন, "জীবনের সবচেয়ে বিপদের সময় সংবাদপত্র তাঁর পাশে ছিল।"

অন্যদিকে, মিশন আচার্যের বড় ভাই শৈলেন আচার্য একটি অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর জন্য মুক্তকণ্ঠ পত্রিকা কর্তৃপক্ষের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।