প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হিসেবে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েও নিয়োগপত্র পাননি ঝিনাইদহের আলোচিত প্রার্থী মিশন আচার্য। তার এই নিয়োগের বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের কাছে একটি চিঠি পাঠিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন।
গত রোববার (৪ অক্টোবর) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে শিক্ষামন্ত্রীর উদ্দেশ্যে এই ডিও লেটার (ডেমি অফিসিয়াল চিঠি) প্রেরণ করেন রাশেদ খাঁন।
চিঠিতে রাশেদ খাঁন উল্লেখ করেন যে, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা-২০২৫-এ চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণ হওয়া সত্ত্বেও স্থায়ী বসতভিটা না থাকার কারণে ঝিনাইদহ সদর উপজেলার চাকরিপ্রার্থী মিশন আচার্য (রোল নম্বর-৬৫১৫৩২৮) নিয়োগপত্র হাতে পাননি। এই বিষয়টি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদে তিনি জানতে পারেন বলে চিঠিতে জানানো হয়।
বিষয়টি অবগত হওয়ার পর রাশেদ খাঁন নিজ জেলা ঝিনাইদহের শহরের স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে মিশন আচার্যের বিষয়ে খোঁজ নেন। স্থানীয়দের কাছ থেকে তিনি জানতে পারেন, মিশন আচার্য জন্মলগ্ন থেকেই ঝিনাইদহ শহরের কলাবাগান এলাকায় বসবাস করে আসছেন। বর্তমানে তিনি ওই এলাকার শহিদুল ইসলামের বাড়িতে ভাড়া বাসায় অবস্থান করছেন।
মিশনের জীবনযুদ্ধের করুণ চিত্রও চিঠিতে তুলে ধরেছেন রাশেদ খাঁন। তিনি জানান, শৈশবে পিতৃহীন হয়ে পড়াআলেখা চালিয়ে যেতে হয়েছে মিশনকে। তার মা ময়না আচার্য অন্যের বাড়িতে কাজ করে অত্যন্ত কষ্টের সাথে তাকে পড়াশোনা করিয়েছেন। নানা প্রতিকূলতা জয় করে তিনি ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগ থেকে স্নাতক সম্পন্ন করেন। এরপর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নেন এবং লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার পর চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণ হন।
চিঠিতে আরও বলা হয়, চাকরির খুব কাছাকাছি পৌঁছেও স্থায়ী ঠিকানা বা বসতভিটা সংক্রান্ত জটিলতার কারণে তার সেই স্বপ্ন এখন অনিশ্চয়তার মুখে। দীর্ঘদিনের কঠোর সংগ্রাম এবং মেধার স্বীকৃতি হিসেবে একটি সরকারি চাকরি পাওয়ার অপেক্ষায় থাকা মিশনের জন্য এই পরিস্থিতি চরম হতাশার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
রাশেদ খাঁন তার চিঠিতে উল্লেখ করেন, মিশন আচার্য এলাকায় অত্যন্ত ভদ্র ছেলে হিসেবে পরিচিত এবং তার বিরুদ্ধে কোনো নেতিবাচক তথ্য পাওয়া যায়নি। এসব বিষয় বিবেচনা করে মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিধি মোতাবেক তার নিয়োগপত্র প্রদানের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য শিক্ষামন্ত্রীর প্রতি অনুরোধ জানান তিনি।