শিক্ষিত বেকার প্রতিবন্ধী গ্র্যাজুয়েটদের জন্য প্রধানমন্ত্রীর নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে কর্মসংস্থানের সুযোগ নিশ্চিত করার দাবিতে রাজপথে নেমে এসেছেন আন্দোলনকারীরা। আজ রোববার (৪ অক্টোবর) বেলা ১১টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে প্রতিবন্ধী গ্র্যাজুয়েট পরিষদের ব্যানারে এই বিক্ষোভ কর্মসূচি শুরু হয়।
পূর্বনির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী আন্দোলনকারীরা সমাজসেবা অধিদপ্তরের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করেন। তবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় তারা পুলিশের বাধার মুখে পড়েন। এর ফলে তারা জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনেই অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ সমাবেশ শুরু করতে বাধ্য হন। এসময় আন্দোলনকারীদের অনেকের মাথায় কাফনের কাপড় জড়ানো ছিল, যা তাদের চরম হতাশা ও জীবনযুদ্ধের ইঙ্গিত দেয়।
বিক্ষোভ সমাবেশে প্রতিবন্ধী গ্র্যাজুয়েট পরিষদের আহ্বায়ক আলী হোসেন স্পষ্ট ভাষায় বলেন, ‘আমরা আর প্রতিশ্রুতি চাই না; আমরা আমাদের শিক্ষাগত যোগ্যতা ও সক্ষমতা অনুযায়ী কর্মসংস্থানের বাস্তব সমাধান চাই। আমরা রাষ্ট্রের কাছে করুণা নয়; বরং যোগ্যতা ও দক্ষতা অনুযায়ী কর্মসংস্থানের সুযোগ চাই।’
সমাবেশে উপস্থিত অন্যান্য বক্তারা তাদের দীর্ঘদিনের কষ্টের কথা তুলে ধরেন। তারা বলেন, ‘উচ্চশিক্ষা গ্রহণের পরও বছরের পর বছর বেকার থাকা প্রতিবন্ধী গ্র্যাজুয়েটদের জন্য অত্যন্ত কষ্টকর। আমরা আমাদের ন্যায্য অধিকার আদায়ের জন্য শান্তিপূর্ণ ও নিয়মতান্ত্রিকভাবে কর্মসূচি অব্যাহত রাখব।’
আন্দোলনে অংশ নেওয়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী শাহনাজ আক্তার তার ব্যক্তিগত অসহায়ত্বের কথা বর্ণনা করে বলেন, ‘পরিবারের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে এসেছি। কারও করুণার পাত্র হয়ে থাকতে চাই না। সামান্য গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ কিনতেও বাবার কাছে টাকা চাইতে হয়।’
উল্লেখ্য যে, প্রতিবন্ধী গ্র্যাজুয়েটরা দীর্ঘদিন ধরে বিশেষ ব্যবস্থার মাধ্যমে কর্মসংস্থানের সুযোগ পাওয়ার দাবিতে লড়াই করে আসছেন। ২০২৫ সালের নভেম্বরে রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে তারা টানা ২৫ দিন অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছিলেন। এছাড়া বিভিন্ন সময়ে তারা মানববন্ধন এবং বিক্ষোভ সমাবেশের মতো কর্মসূচি পালন করে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করার চেষ্টা করছেন।