সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক বৈষম্য এবং ক্ষুধার তীব্রতাকে কেন্দ্র করে কবি আবিদ আনোয়ার একটি মর্মস্পর্শী কবিতা লিখেছেন, যার শিরোনাম ‘অন্নদামঙ্গল’। এই কবিতায় কবি দেবী অন্নদার কাছে এক করুণ আর্তি জানিয়েছেন, যেখানে আধ্যাত্মিক প্রাপ্তির চেয়ে মানবিক চাহিদাকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে।

কবিতার শুরুতেই কবি ঈশ্বরী পাটনীর সেই প্রাচীন আকুলতার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন, যেখানে তিনি কেবল সন্তানের মুখে অন্ন পাওয়ার প্রার্থনা করেছিলেন। কবির ভাষায়, “কিছুই চাই না দেবী, ধন্য মানি যা আছে বরাতে,শুধু চাই আমার সন্তান যেন থাকে দুধে-ভাতে—ঈশ্বরী পাটনীর কথা সেই কবে কখন একদারেখেছিল শোনা যায় জগদ্ধাত্রী দয়ালু অন্নদা।”

তবে এই প্রার্থনার বিপরীতে বর্তমান পৃথিবীর রূঢ় বাস্তবতাকে ফুটিয়ে তুলেছেন কবি। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, কেন আজও দেবীদত্ত বর ব্যর্থ হচ্ছে এবং কেন অন্নকষ্টে শিশুদের প্রাণ হারাতে হচ্ছে। কবির দৃষ্টিতে এই ক্ষুধা কেবল নির্দিষ্ট কোনো সীমানায় সীমাবদ্ধ নয়। তিনি লিখেছেন, “তবু কেন ব্যর্থ হয় বারবার দেবীদত্ত বর,অন্নকষ্টে শিশু মরে আজও কেন পথের উপর!অভুক্ত ইথিওপিয়া, গাজা থেকে সোনার বাংলায়আরেকটি লাশের লোভে শকুনেরা থাকে অপেক্ষায়?”

কবিতার শেষাংশে কবি দেবী পার্বতী বা উমার বিভিন্ন রূপের কাছে প্রার্থনা জানিয়েছেন যেন তিনি তাঁর অস্ত্রশস্ত্র দিয়ে সেই সব অমানবিক মানুষদের বিনাশ করেন, যাদের চক্রান্তে পৃথিবী আজ ক্ষুধায় কাতর। কবি লিখেছেন, “যে তুমি পার্বতী, উমা, মতান্তরে তুমিই অন্নদা!তোমার ত্রিশূল-বজ্র-তির-ধনু খড়্গ আর গদাএবার শরতে যেন বধ করে মনিষ্যি–অসুরযাদের চক্রান্তে কাঁদে পৃথিবীতে শত ক্ষুধাতুর।”

পরিশেষে, কৃত্রিম অভাব এবং ক্ষুধার্ত শিশুদের করুণ অবস্থার কথা উল্লেখ করে কবি আক্ষেপ করেছেন যে, সাধারণ মানুষের মুখে অন্ন পৌঁছানোর পরিবর্তে ক্ষমতার লোভে তৈরি করা এই ‘বানানো আকাল’ শিশুদের ভবিষ্যৎকে অন্ধকারের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। কবিতার শেষ পংক্তিগুলোতে বলা হয়েছে, “দুধমাখা ভাতগুলো কাকে খাবে আর কতকাল,খোকারা আঙুল চুষে দেখে যাবে বানানো আকাল!”