সাধারণত স্পোর্টস ইউটিলিটি ভেহিকল বা এসইউভি গাড়িগুলোর তৃতীয় সারির আসনগুলো শিশুদের জন্য বা চাইল্ড সিট হিসেবে ব্যবহৃত হয়, যেখানে প্রাপ্তবয়স্কদের বসার পর্যাপ্ত জায়গা থাকে না। তবে এই সীমাবদ্ধতা দূর করে প্লাগড-ইন হাইব্রিড ভেহিকল শ্রেণিতে এমন এক এসইউভি নিয়ে এসেছে এমজি বাংলাদেশ, যার শেষ সারিতেও দীর্ঘদেহী মানুষরা স্বাচ্ছন্দ্যে বসতে পারবেন। গাড়িটির মডেল এমজি এস৯ পিএইচইভি। বৈদ্যুতিক চার্জ এবং জ্বালানির সমন্বয়ে চলা গাড়িগুলোর মধ্যে এটি আকারে সবচেয়ে বড়। এর অভ্যন্তরে প্রশস্ত জায়গা এবং কার্যকারিতার জন্য এমজি এস৯ মর্যাদাপূর্ণ 'হোয়াট কার অ্যাওয়ার্ডসে' আনুষ্ঠানিকভাবে সেরা প্লাগড-ইন হাইব্রিড ৭-সিট এসইউভির স্বীকৃতি পেয়েছে।

গত শুক্রবার রাজধানীর বাংলাদেশ–চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এমজি বাংলাদেশ দেশের বাজারে বিক্রির জন্য এমজি এস৯ পিএইচইভি অবমুক্ত করে। এই অনুষ্ঠানে এমজি বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) হোসেন মাশনুর চৌধুরী এবং বিভাগীয় পরিচালক ইমরান জামান খানসহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন। উক্ত অনুষ্ঠানে পিএইচইভি মডেলের পাশাপাশি সম্পূর্ণ বৈদ্যুতিক গাড়ি (ইভি) এমজি এস৬-ও উন্মোচন করা হয়।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মাশনুর চৌধুরী বলেন, “বাংলাদেশি গ্রাহকদের দৈনন্দিন যাতায়াত, পারিবারিক ভ্রমণ ও দীর্ঘ দূরত্বের যাত্রার প্রয়োজনীয়তা দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। এমজি এস৯ পিএইচইভি ও এমজি এস৬ ইভির মাধ্যমে আমরা বৈদ্যুতিক ও প্লাগড-ইন হাইব্রিড গাড়ির দুটি ভিন্ন অভিজ্ঞতা নিয়ে এসেছি। এস৯ পিএইচইভি দৈনন্দিন বৈদ্যুতিক ড্রাইভিংয়ের সুবিধার সঙ্গে দীর্ঘ যাত্রায় পেট্রোল ইঞ্জিনের নমনীয়তা দিচ্ছে এবং এস৬ ইভি নিয়ে আসছে সম্পূর্ণ বৈদ্যুতিক চালনার নতুন অভিজ্ঞতা। বাংলাদেশের বাজারে এ দুটি নতুন মডেল নিয়ে আসতে পেরে আমরা আনন্দিত।”

অন্যদিকে ইমরান জামান খান বলেন, “এমজি এস৯ পিএইচইভি ও এমজি এস৬ ইভি গ্রাহকদের পরিবর্তিত চাহিদাকে সামনে রেখে তৈরি করা হয়েছে। এস৯-এর সাত আসনের ব্যবহারিক উপযোগিতা, বৈদ্যুতিক ড্রাইভিং সক্ষমতা ও দীর্ঘ দূরত্বের নমনীয়তা যেমন পরিবারের জন্য বাড়তি সুবিধা তৈরি করবে, তেমনি এস৬ ইভির বৈদ্যুতিক পারফরম্যান্স ও আধুনিক বৈদ্যুতিক গাড়ির প্রযুক্তি নতুন প্রজন্মের বৈদ্যুতিক এসইউভি অভিজ্ঞতা দেবে। আমরা গ্রাহকদের প্রদর্শনীকেন্দ্রে এসে গাড়ি দুটি সরাসরি দেখার ও অভিজ্ঞতা নেওয়ার জন্য স্বাগত জানাতে উন্মুখ।”

এমজি এস৯ গাড়িটির দৈর্ঘ্য ৪ হাজার ৯৮৩ মিলিমিটার, প্রস্থ ১ হাজার ৯৬৭ মিলিমিটার এবং উচ্চতা ১ হাজার ৭৭৮ মিলিমিটার। এর হুইলবেইস ২ হাজার ৯১৫ মিলিমিটার। ৪ দশমিক ৯৮ মিটার দীর্ঘ এই গাড়ির তিনটি সারিতেই প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য আরামদায়ক বসার ব্যবস্থা এবং একটি বহুমুখী কেবিন রয়েছে। দ্বিতীয় ও তৃতীয় সারির আসনগুলো ভাঁজ করলে মালামাল বহনের ধারণক্ষমতা ২ হাজার ৯৩ লিটারে দাঁড়ায়, যার ফলে একটি মাঝারি আকারের ফ্রিজও এতে বহন করা সম্ভব। পারিবারিক ভ্রমণ, বিমানবন্দরে যাতায়াত এবং বড় আকারের জিনিসপত্র বহনের জন্য পর্যাপ্ত জায়গা থাকায় যেকোনো দীর্ঘ যাত্রায় এটি হতে পারে আদর্শ সঙ্গী। এমনকি তিনটি সারিতে যাত্রী বহন করলেও গাড়িটি ৩৩২ লিটার পর্যন্ত মালামাল বহন করতে পারে।

তৃতীয় সারির যাত্রীদের জন্য বিশেষ সুবিধা হিসেবে রাখা হয়েছে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত যন্ত্রের বাতাস বের হওয়ার খোপ বা এসি ভেন্ট, যা তীব্র গরমেও যাত্রাকে আরামদায়ক করবে। পেছনের দুই সারিতে ফ্যাক্টরি ফিটেড প্রাইভেসি উইন্ডো গ্লাস ব্যবহার করা হয়েছে। এছাড়া তৃতীয় সারির আসনে হেডরেস্ট, স্পিকার এবং মুঠোফোনের চার্জার পোর্ট রয়েছে। পর্যাপ্ত হেডরুম থাকার কারণে ৫ ফুট ৮ ইঞ্চি উচ্চতার দুজন মানুষ অনায়াসেই তৃতীয় সারিতে বসে ভ্রমণ করতে পারবেন।

এস৯ মডেলটিতে ব্যবহার করা হয়েছে দেড় লিটার টার্বোচার্জড পেট্রোল ইঞ্জিন, একটি বৈদ্যুতিক মোটর এবং ২৪ দশমিক ৭ কিলোওয়াট-আওয়ার ব্যাটারি। শুধুমাত্র বৈদ্যুতিক শক্তিতে গাড়িটি ১০০ কিলোমিটার পর্যন্ত পথ পাড়ি দিতে পারে। আর এক ট্যাঙ্ক পূর্ণ জ্বালানি ও পূর্ণ চার্জের সমন্বয়ে এটি এক হাজার কিলোমিটারের বেশি পথ অতিক্রম করতে সক্ষম। ফলে চার্জিং স্টপ নিয়ে বাড়তি চিন্তা ছাড়াই দীর্ঘ দূরত্বে ভ্রমণের স্বাধীনতা পাবেন ব্যবহারকারীরা। পাশাপাশি ন্যূনতম জ্বালানি খরচে প্রতিদিনের অফিস বা স্কুলে যাতায়াতের কাজগুলো সম্পন্ন করা যাবে।

জ্বালানিসাশ্রয়ী এই গাড়ির গ্রাউন্ড ক্লিয়ারেন্স ১৯০ মিলিমিটার, যা বিভিন্ন ধরনের রাস্তায় চলাচলের জন্য যথেষ্ট। আরামদায়ক অভিজ্ঞতার জন্য এতে রয়েছে প্যানোরামিক সানরুফ, ম্যাসাজ ও গরম–ঠান্ডা সুবিধাযুক্ত সামনের আসন, তিনটি জোনে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ এবং পরিবেশবান্ধব আলোকসজ্জা। প্রযুক্তির দিক থেকে এতে রয়েছে তারহীন অ্যাপল কারপ্লে ও অ্যান্ড্রয়েড অটো, তারবিহীন স্মার্টফোন চার্জিং, ১২-স্পিকারের বোস অডিও সিস্টেম এবং ১২ দশমিক ৩ ইঞ্চির ডিসপ্লে।

নিরাপত্তা ও ড্রাইভিং অভিজ্ঞতা উন্নত করতে এতে যুক্ত করা হয়েছে এমজি অটো পাইলট। যার আওতায় রয়েছে অভিযোজিত ক্রুজ নিয়ন্ত্রণ, স্বয়ংক্রিয় জরুরি ব্রেকিং, লেন ধরে রাখার সহায়তা, অন্ধ-স্থান শনাক্তকরণ এবং পেছন থেকে আসা ক্রস-ট্রাফিক সতর্কতা। ৩৬০-ডিগ্রি এইচডি পার্কিং ক্যামেরার মাধ্যমে চারপাশের দৃশ্য স্বচ্ছভাবে দেখা যায়, যা জনাকীর্ণ শহর বা সংকীর্ণ পার্কিং স্পেসে গাড়ি চালানো সহজ করে তোলে।

গাড়িটিতে আরও রয়েছে ডোর ওপেন ওয়ার্নিং, নিরাপত্তার জন্য ৭টি এয়ারব্যাগ, ১২ দশমিক ৩ ইঞ্চির মাল্টিমিডিয়া, চালকের জন্য তথ্যসমৃদ্ধ দুটি ডিসপ্লে, তারবিহীন মুঠোফোন চার্জার, অ্যামবিয়েন্ট লাইটিং এবং আট প্রকার সুবিধাসহ চালকের আসন। সামনের চাকায় শক্তিসমৃদ্ধ (এফডব্লিউডি) এই গাড়িতে ২০ ইঞ্চি অ্যালয় চাকা ব্যবহার করা হয়েছে। শুধুমাত্র জ্বালানি শক্তি ব্যবহার করে গাড়িটি প্রতি ১০০ কিলোমিটারে ৫ দশমিক ৮ লিটার জ্বালানি খরচ করে। ২৪ দশমিক ৭ কিলোওয়াটসমৃদ্ধ এস৯ মাত্র ৯ দশমিক ৬ সেকেন্ডে শূন্য থেকে ১০০ কিলোমিটার গতি তুলতে পারে এবং এটি ৫ দশমিক ৭৫ মিটার জায়গায় ঘোরানো সম্ভব।

এর পাশাপাশি এমজি বাংলাদেশ নিয়ে এসেছে সম্পূর্ণ বৈদ্যুতিক গাড়ি এমজি এস৬ ইভি, যা একবার পূর্ণ চার্জে ৫৩০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে সক্ষম। এতে রয়েছে ৭৭ কিলোওয়াট-আওয়ার ব্যাটারি, ১৮০ কিলোওয়াট বৈদ্যুতিক মোটর এবং ৩৫০ নিউটন-মিটার টর্ক, যা শক্তিশালী পারফরম্যান্স নিশ্চিত করে। দীর্ঘ দূরত্ব পাড়ি দেওয়ার সক্ষমতার কারণে এই গাড়ি নিয়ে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম আসা-যাওয়া করা সম্ভব। আধুনিক স্থাপত্য, প্রশস্ত এসইউভি নকশা, উন্নত প্রযুক্তি এবং পেছনের চাকাকে কেন্দ্র করে তৈরি ড্রাইভিং বৈশিষ্ট্যের সমন্বয়ে এস৬ ইভি এমজির নিউ এনার্জি গাড়ির তালিকায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

এস৯ পিএইচইভি মডেলটি সাদা, সবুজ, কালো, রুপালি ও ধূসরসহ মোট ৫টি রঙে পাওয়া যাবে। প্রথম ১০০টি ইউনিটের জন্য গাড়িটির দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৬৩ লাখ ৯০ হাজার টাকা, পরবর্তীতে এই দাম হবে ৬৪ লাখ ৯০ হাজার টাকা। অন্যদিকে, এস৬ ইভির প্রারম্ভিক মূল্য ৫৩ লাখ ৯০ হাজার টাকা এবং পরবর্তী মূল্য হবে ৫৪ লাখ ৯০ হাজার টাকা। উভয় গাড়িতেই ৮ বছরের বিক্রয়োত্তর সেবা মিলবে এবং বাসায় চার্জ দেওয়ার জন্য ১১ কিলোওয়াটের হোম চার্জিং স্টেশন বিনামূল্যে প্রদান করা হবে।