চলতি বছরে দফায় দফায় জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় ব্যক্তিগত গাড়ির রক্ষণাবেক্ষণ ও জ্বালানি খরচ আগের চেয়ে অনেক বেড়ে গিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে অনেক ক্রেতা এখন হাইব্রিড গাড়ির পাশাপাশি সিএনজি এবং এলপিজি (লিকুইফাইড পেট্রোলিয়াম গ্যাস) চালিত গাড়ির প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠছেন। সাধারণত হাইব্রিড গাড়িতে জ্বালানি খরচ কম হলেও এতে ব্যাটারি, বৈদ্যুতিক মোটর এবং ব্রেক বুস্টারের মতো অতিরিক্ত কিছু যন্ত্রাংশ থাকে। এই যন্ত্রাংশগুলোর নিয়মিত যত্ন নিতে হয়, যার ফলে রক্ষণাবেক্ষণ খরচ তুলনামূলকভাবে বেশি হয়ে থাকে। অন্যদিকে, সিএনজি জ্বালানি সস্তা হলেও দেশে প্রায়ই গ্যাস সংকট দেখা দেয়, যা চালকদের জন্য সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়; এছাড়া সিএনজি ট্যাংক আকারে বেশ বড় হয়।

এলপিজি জ্বালানি সিএনজির মতো উচ্চ চাপে প্রবেশ করে না বলে এর ট্যাংক অনেক হালকা এবং আকারে ছোট হয়, যার ফলে এলপিজিতে চলা গাড়িগুলো অধিক নিরাপদ বলে বিবেচিত হয়। এছাড়া অকটেনের তুলনায় এলপিজির দাম প্রায় অর্ধেক, যা একে অত্যন্ত সাশ্রয়ী করে তুলেছে। এই সব ধরনের সুবিধার কথা মাথায় রেখেই মিতসুবিশি মোটরস বাংলাদেশ এখন দেশে তৈরি এলপিজি চালিত মিতসুবিশি এক্সপ্যান্ডার ইকো মডেলের গাড়ি বাজারজাত করছে।

মিতসুবিশি মোটরস বাংলাদেশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গাজীপুরের র‍্যাংকন ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কে সাত আসনের এই মিতসুবিশি এক্সপ্যান্ডার মডেলের গাড়িগুলো তৈরি করা হচ্ছে। এই এসইউভি ঘরানার গাড়িটির ইকো সংস্করণ ছাড়াও আরও তিনটি সংস্করণ রয়েছে—ক্ল্যাসিক, প্রিমিয়াম এবং স্পোর্টস। ক্রেতারা চাইলে ইকো সংস্করণের পাশাপাশি বাকি তিনটি সংস্করণকেও এলপিজিতে রূপান্তর করে নিতে পারবেন। উল্লেখ্য, বাংলাদেশে তৈরি এই গাড়িগুলোর দাম আমদানি করা একই মডেলের গাড়ির তুলনায় প্রায় ২০ শতাংশ পর্যন্ত কম।

মিতসুবিশি এক্সপ্যান্ডার মডেলের এই গাড়িতে ১ দশমিক ৫ লিটার মাইভেক ইঞ্জিন ব্যবহার করা হয়েছে। গাড়িটির গ্রাউন্ড ক্লিয়ারেন্স ২২০ মিলিমিটার হওয়ায় বাংলাদেশের রাস্তাঘাটে এটি খুব সহজেই চলাচল করতে পারে। এছাড়া এক্সপ্যান্ডার ইকো সংস্করণটি তৈরির সময় এতে উন্নত মানের ইউরোপিয়ান এলপিজি কিট যুক্ত করা হয়েছে, ফলে নিরাপত্তা নিয়ে ক্রেতাদের দুশ্চিন্তা করতে হবে না।

মিতসুবিশি এক্সপ্যান্ডার ইকো গাড়িতে রয়েছে ৪০ লিটারের এলপিজি ট্যাংক এবং ৪৫ লিটারের অকটেন ট্যাংক, যার ফলে দীর্ঘ পথ traveled করার সময় জ্বালানি শেষ হওয়ার ভয় থাকে না। গাড়িটির এলপিজি সিলিন্ডারটি চেসিসের নিচে বসানো থাকে, ফলে বুটস্পেসের পুরো জায়গাটি ব্যবহার করা সম্ভব হয়। এই গাড়িটি কিনলে এলপিজি কিটে পাঁচ বছরের বিক্রয়োত্তর সেবাসহ এক বছরের সার্ভিস সেবা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে পাওয়া যাবে। গাড়িটির বাজারমূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৩৬ লাখ টাকা।