চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) বিদেশি প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডের কাছে হস্তান্তর করার উদ্যোগকে ‘আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত’ হিসেবে অভিহিত করেছেন বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ এবং বন্দর জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের নেতৃবৃন্দ। এই স্পর্শকাতর বিষয়ে আলোচনার জন্য তারা সরকারের কাছে পাঁচ দিনের সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন। শ্রমিক নেতাদের হুঁশিয়ারি, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ না করা হলে ধারাবাহিক আন্দোলনের পাশাপাশি আগামী ৭ অক্টোবর বন্দর এলাকায় এক বিশাল মশাল মিছিল করা হবে।
শনিবার (৩ অক্টোবর) বিকেলে চট্টগ্রাম বন্দরে জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল ও বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের যৌথ উদ্যোগে একটি প্রতিবাদ সভা আয়োজন করা হয়। এই সভায়ই আগামী দিনের কর্মসূচিগুলো ঘোষণা করা হয়। উক্ত প্রতিবাদ সভায় চট্টগ্রাম সর্বদলীয় শ্রমিক-কর্মচারী ঐক্য পরিষদ (স্কপ) এবং বন্দরের পাঁচটি সক্রিয় শ্রমিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত থেকে তাদের একাত্মতা প্রকাশ করেন।
সভায় উপস্থিত শ্রমিক নেতারা গুরুত্ব দিয়ে বলেন যে, চট্টগ্রাম বন্দর বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রধান প্রবেশদ্বার হিসেবে কাজ করে। দেশের আমদানি ও রপ্তানির একটি বিশাল অংশ এই বন্দরের মাধ্যমেই সম্পন্ন হয়। তাই জাতীয়ভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই অবকাঠামোর পরিচালনা বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে দেওয়ার আগে এর অর্থনৈতিক প্রভাব, কৌশলগত গুরুত্ব এবং সার্বভৌমত্বের বিষয়গুলো গভীরভাবে বিবেচনা করা জরুরি বলে তারা মনে করেন।
বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের প্রধান সমন্বয়ক মো. হুমায়ুন কবির বলেন, “পৃথিবীর কোথাও কোনো দেশের গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রবন্দর শতভাগ বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে তুলে দেওয়ার নজির আছে কি না, সরকারকে তা যাচাই করতে হবে।” তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, চট্টগ্রাম বন্দরের কোনো বিকল্প এখনো তৈরি হয়নি, তাই এই বিষয়ে কোনো অবিবেচনাপ্রসূত সিদ্ধান্ত দেশের জন্য বড় ধরনের সংকট তৈরি করতে পারে।
বক্তারা অতীতের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, ১৯৯৬ সালে চট্টগ্রাম বন্দর অচল করার ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশে তীব্র রাজনৈতিক সংকট তৈরি হয়েছিল। তারা স্পষ্টভাবে জানান যে, ভবিষ্যতেও বন্দরকে কেন্দ্র করে তেমন কোনো পরিস্থিতি তৈরি হোক তা তারা মোটেই চান না। তাদের অভিযোগ, কিছু দেশি ও বিদেশি স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী বন্দরের মতো গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় সম্পদ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা করছে।
ডক জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের একজন নেতা জানান, তারা আলোচনার মাধ্যমে এই সমস্যার সমাধান করতে আগ্রহী। সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “চুক্তি চূড়ান্ত করার আগেই শ্রমিক প্রতিনিধিদের সঙ্গে বসতে হবে।” নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় এনসিটি পরিচালনা করলে রাজস্ব বৃদ্ধি এবং জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করা সম্ভব হবে—এই যুক্তি তারা সরকারের সামনে তুলে ধরতে প্রস্তুত বলে জানান।
সমাবেশ থেকে ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, ৪ অক্টোবর চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সামনে এক মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হবে। ৫ অক্টোবর বন্দর কাস্টমস মোড়ে দিনব্যাপী অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হবে এবং ৭ অক্টোবর ১২ নম্বর রোড থেকে ওয়ানস্টপ সার্ভিস সেন্টার অভিমুখে এক মশাল মিছিল করা হবে।
শ্রমিক নেতারা আরও দাবি করেছেন যে, এনসিটি, সিসিটি ও জিসিবি টার্মিনাল অবশ্যই দেশীয় ব্যবস্থাপনায় রাখতে হবে। পাশাপাশি আন্দোলনরত শ্রমিকদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাগুলো প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত তাদের এই আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।