চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনালের (এনসিটি) ইজারা চুক্তি বাতিল এবং শ্রমিক-কর্মচারীদের চাকরির নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবিতে শুরু হয়েছে এক গণ-অনশন কর্মসূচি। আজ সোমবার বেলা সাড়ে ১১টায় বন্দরের ওয়ান-স্টপ সার্ভিস ভবনের সামনে জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল ও চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা পরিষদের যৌথ ব্যানারে এই কর্মসূচি শুরু হয়। জানা গেছে, এই অনশন কর্মসূচি আজ বিকেল চারটা পর্যন্ত চলবে।

গত ৮ অক্টোবর চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল পরিচালনায় দুবাইভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে ১৫ বছর মেয়াদি একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তি অনুযায়ী, প্রয়োজনীয় সকল প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে আগামী ছয় মাসের মধ্যে টার্মিনালটি পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করবে প্রতিষ্ঠানটি। উল্লেখ্য, বর্তমানে এই টার্মিনালটি নৌবাহিনীর প্রতিষ্ঠান চিটাগং ড্রাই ডক লিমিটেড দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে।

তবে এনসিটি পরিচালনায় বিদেশি অপারেটরকে ইজারা দেওয়ার এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে অন্তর্বর্তী সরকারের আমল থেকেই আন্দোলন করে আসছেন বন্দর শ্রমিক ও কর্মচারীরা। এনসিটিকে একটি অত্যন্ত লাভজনক টার্মিনাল হিসেবে উল্লেখ করে তাঁরা এই চুক্তির তীব্র বিরোধিতা করছেন। যদিও সরকারের পক্ষ থেকে এই বিষয়ে আশ্বস্ত করা হয়েছে যে, ডিপি ওয়ার্ল্ড দায়িত্ব গ্রহণ করলেও শ্রমিকেরা কোনোভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত হবেন না, তা সত্ত্বেও শ্রমিক-কর্মচারীরা তাঁদের আন্দোলন ও কর্মসূচি অব্যাহত রেখেছেন।

এই ‘গণ-অনশন’ কর্মসূচিতে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করছেন চট্টগ্রাম বন্দর জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল ও বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. হুমায়ুন কবীর এবং ইব্রাহিম খোকন। এই দুই নেতাই বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের আমল থেকে এনসিটি ইজারা সংক্রান্ত বিষয়ে আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন। আজকের এই কর্মসূচিতে শতাধিক আন্দোলনকারী অংশ নিয়েছেন।

আন্দোলনের বিষয়ে ইব্রাহিম খোকন মুক্তকণ্ঠকে বলেন, ‘চুক্তি সই হওয়ার দিন আমরা বিক্ষোভ মিছিল থেকে সরকারকে দুই দিনের সময় দিয়েছিলাম আলোচনার জন্য। কিন্তু কোনো আলোচনার উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। তাই আমরা পূর্বঘোষণা অনুযায়ী শান্তিপূর্ণ গণ–অনশন করছি।’

চট্টগ্রাম বন্দরে বর্তমানে চালু থাকা চারটি টার্মিনালের মধ্যে নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনালটি সবচেয়ে বড়। বন্দর দিয়ে আমদানি ও রপ্তানি কার্যক্রমের মোট কনটেইনারের প্রায় ৪৪ শতাংশ এই টার্মিনালে ওঠানো ও নামানো হয়। ২০০৭ সালে নির্মাণকাজ শেষ হওয়া প্রায় এক কিলোমিটার দীর্ঘ এই টার্মিনালটিতে একসঙ্গে চারটি সমুদ্রগামী এবং একটি ছোট কনটেইনার জাহাজ ভেড়ানো সম্ভব। নির্মাণের পর প্রথমে আংশিক এবং পরবর্তীতে পুরোদমে চালু হয় এই টার্মিনালটি। এতদিন দেশীয় অপারেটরদের সঙ্গে স্বল্পমেয়াদি চুক্তির মাধ্যমেই এটি পরিচালিত হয়ে আসছিল।

বর্তমানে নৌবাহিনীর প্রতিষ্ঠান চিটাগং ড্রাই ডক লিমিটেড টার্মিনালটি পরিচালনা করলেও, নতুন চুক্তির পর এখন এটি ডিপি ওয়ার্ল্ডের হাতে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শুরু হবে। পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হতে প্রায় ছয় মাস সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।