নারায়ণগঞ্জ জেলার সাতটি থানা এবং জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)-এর এক যৌথ বিশেষ অভিযানে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের সদস্য, মাদক ব্যবসায়ী ও মাদকসেবীসহ মোট ৯৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শনিবার (৩ অক্টোবর) জেলার বিভিন্ন এলাকায় এই সমন্বিত অভিযানটি চালানো হয়।
জেলা পুলিশ সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, গ্রেপ্তারকৃত ৯৮ জনের মধ্যে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের সদস্য হিসেবে পাওয়া গেছে ৯ জনকে। এছাড়া মাদক কারবারির তালিকায় রয়েছেন ৮ জন এবং মাদকসেবী হিসেবে গ্রেপ্তার হয়েছেন ৫৮ জন। অভিযানে একজন চোর, বিভিন্ন মামলায় ওয়ারেন্টভুক্ত ৭ জন, নিয়মিত মামলার ৮ জন আসামি এবং অন্যান্য আইনের অধীনে আরও ৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমান, পিপিএম-এর বিশেষ নির্দেশনায় জেলার সাতটি থানা ও জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) যৌথভাবে এই অভিযানটি পরিচালনা করে।
বিস্তারিত তথ্যে জানা যায়, নারায়ণগঞ্জ সদর থানা পুলিশ তাদের অভিযানে ১৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। যাদের মধ্যে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের একজন সদস্য, ২১২ পিস ইয়াবাসহ দুই মাদক কারবারি, ছয় মাদকসেবী, দুই ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি এবং অন্যান্য মামলায় চারজন রয়েছেন।
অন্যদিকে, ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশ ৪০ পিস ইয়াবাসহ একজন মাদক কারবারি, ১৮ মাদকসেবী, তিন ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি এবং নিয়মিত ও অন্যান্য মামলায় দুজনসহ মোট ২৪ জনকে গ্রেপ্তার করে।
সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পুলিশের অভিযানে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের তিন সদস্য, ৩০ পিস ইয়াবাসহ তিন মাদক কারবারি, ১২ মাদকসেবী, একজন ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি এবং নিয়মিত মামলার পাঁচ আসামিসহ মোট ২৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
একই সাথে বন্দর থানা পুলিশ ছয় মাদকসেবী ও অন্যান্য আইনে একজনসহ মোট সাতজনকে গ্রেপ্তার করেছে। সোনারগাঁ থানা পুলিশ তাদের অভিযানে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের তিন সদস্য, ৫০ পিস ইয়াবাসহ দুই মাদক কারবারি, ১৩ মাদকসেবী, একজন ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ও একজন চোরসহ ২০ জনকে গ্রেপ্তার করে।
রূপগঞ্জ থানা পুলিশ নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের দুই সদস্য, তিন মাদকসেবী ও অন্যান্য আইনে দুজনসহ সাতজনকে এবং আড়াইহাজার থানা পুলিশ অন্যান্য আইনে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে।
পুলিশের দেওয়া তথ্যের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, মোট গ্রেপ্তারকৃত ৯৮ জনের মধ্যে ৫৮ জনই মাদকসেবী, যা মোট গ্রেপ্তারের অর্ধেকের বেশি। এছাড়া আটজন মাদক কারবারির কাছ থেকে মোট ৩৩২ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে। একই অভিযানে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের নয় সদস্যকেও আইনের আওতায় আনা হয়েছে।
নারায়ণগঞ্জ পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও অপারেশন) তারেক আল মেহেদী মুক্তকণ্ঠকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, “জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, মাদক ও অপরাধ নিয়ন্ত্রণ এবং বিভিন্ন মামলার আসামিদের আইনের আওতায় আনতে নিয়মিত বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।” তিনি আরও জানান, অপরাধের ধরন ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এই ধরনের অভিযান আগামীতে আরও জোরদার করা হবে।
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।