তরুণ প্রজন্মকে মাদকের নীল দংশন থেকে রক্ষা করতে ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের বিশেষ ভূমিকা পালন করার কথা বলেছেন নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী রাজীব আহসান। শনিবার (৩ অক্টোবর) বিকেলে বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলা মাল্টিকমপ্লেক্স অডিটোরিয়ামে আলেম-ওলামা, ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের সাথে এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই আহ্বান জানান।
প্রতিমন্ত্রী রাজীব আহসান বলেন, "বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জের প্রতিটি মসজিদের খুতবা ও ধর্মীয় আলোচনায় মাদকের ক্ষতিকর দিক তুলে ধরে তরুণদের সচেতন করতে হবে। মাদকের বিস্তার ঠেকাতে শুধু প্রশাসনের অভিযান যথেষ্ট নয়; পরিবার, সমাজ ও ধর্মীয় নেতাদেরও একসঙ্গে কাজ করতে হবে। বিশেষ করে ইমাম ও মুয়াজ্জিনেরা নিয়মিত ধর্মীয় আলোচনার মাধ্যমে তরুণদের মাদক থেকে দূরে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন।"
মাদকের ভয়াবহতা উল্লেখ করে তিনি বলেন, "মাদক একজন মানুষের জীবন নষ্ট করার পাশাপাশি একটি পরিবারকেও বিপর্যস্ত করে দিতে পারে। এর প্রভাব পড়ে সমাজ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ওপরও। তাই মাদকের বিরুদ্ধে সচেতনতা তৈরিকে সামাজিক আন্দোলনে পরিণত করতে হবে।"
মসজিদের ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, খুতবা ও ধর্মীয় আলোচনার মাধ্যমে তরুণদের নৈতিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধের প্রতি উদ্বুদ্ধ করতে হবে। তিনি আরও বলেন, "কোনো তরুণ মাদকের সঙ্গে জড়িয়ে পড়লে তাকে আরও দূরে ঠেলে না দিয়ে পরিবার ও সমাজকে তার চিকিৎসা ও স্বাভাবিক জীবনে ফেরার পথ তৈরি করতে হবে।"
জাতীয়তাবাদী ওলামা দলের মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলা ও পৌর শাখার উদ্যোগে এই সভার আয়োজন করা হয়। এতে উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়ন থেকে প্রায় ৮০০ জন আলেম-ওলামা, ইমাম ও মুয়াজ্জিন অংশ নেন। প্রশাসনের পাশাপাশি ধর্মীয় নেতাদের সম্পৃক্ত করে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলাই ছিল এই সভার মূল লক্ষ্য।
সভায় উপস্থিত বক্তারা মত প্রকাশ করেন যে, প্রত্যন্ত অঞ্চলে মাদকবিরোধী সচেতনতা তৈরিতে ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের ভূমিকা অপরিসীম, কারণ তারা নিয়মিত সাধারণ মানুষের সংস্পর্শে থাকেন। মসজিদভিত্তিক সচেতনতা কার্যক্রম জোরদার হলে তরুণদের কাছে মাদকের ক্ষতিকর প্রভাবের বার্তা দ্রুত পৌঁছানো সম্ভব হবে।
মতবিনিময় সভায় মাদকবিরোধী কার্যক্রমের পাশাপাশি সামাজিক অবক্ষয় রোধ, নৈতিক মূল্যবোধ জাগ্রত করা এবং বিভিন্ন সামাজিক সমস্যা মোকাবিলায় আলেম-ওলামাদের সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানানো হয়।