হিজলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের একটি অংশ দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত ও জীর্ণ অবস্থায় রয়েছে, যেখানে চলছে চিকিৎসাসেবা। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) এই ঝুঁকিপূর্ণ ভবন পরিদর্শন শেষে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী রাজীব আহসান গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
৫০ শয্যার বিশিষ্ট এই হাসপাতাল ঘুরে দেখার সময় প্রতিমন্ত্রীর নজরে আসে ভবনের জীর্ণ ও পরিত্যক্ত অংশটি। বর্তমান অবস্থা দেখে তিনি অসন্তোষ প্রকাশ করে দ্রুত বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণের ওপর জোর দেন। ঘটনাস্থলেই তিনি উপজেলা প্রকৌশলীকে ডেকে পাঠান এবং পরিত্যক্ত ভবন থেকে চিকিৎসাসেবা অন্যত্র স্থানান্তরের বিষয়ে তাৎক্ষণিক আলোচনা ও নির্দেশনা দেন। রোগীদের সেবা যাতে ঝুঁকির মুখে না পড়ে, সে জন্য দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার তাগিদ জানান তিনি।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. অনিক বিশ্বাস, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইলিয়াস শিকদার, হিজলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. সোলাইমান, হিজলা উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব অ্যাডভোকেট দেওয়ান মনির, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আলতাফ হোসেন খোকনসহ স্থানীয় বিএনপির নেতারা।
হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে দুপুর একটার দিকে মেহেন্দিগঞ্জের আন্দারমানিক ইউনিয়নের ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডের আন্দারমানিক গ্রামের নদীভাঙন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন নৌ প্রতিমন্ত্রী। এরপর দুপুর দুইটার দিকে হিজলার বড় জালিয়া ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের শ্রীপুর গ্রামের ভাঙনকবলিত এলাকা ঘুরে দেখেন। বেলা আড়াইটার দিকে মেহেন্দিগঞ্জের দক্ষিণ উলানিয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ আশা, উত্তর আশা, পূর্ব সুলতানি ও পশ্চিম সুলতানির ৬, ৭, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের এলাকাগুলোও পরিদর্শন করেন। এ ছাড়া জাঙ্গালিয়া ইউনিয়নের মিঠুয়া গ্রামের নদীভাঙন পরিস্থিতিও সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করেন তিনি। এসব এলাকায় নদীভাঙন রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী।
পরিদর্শনকালে পানি উন্নয়ন বোর্ডের ডিজাইন বিভাগের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আবদুল্লাহ আল মামুন ও বরিশাল পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জাবেদ ইকবালসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।