নোয়াখালীর সুবর্ণচরে পৈতৃক সম্পত্তির সীমানা নিয়ে বিরোধের জেরে অর্ধশতাধিক গাছ কেটে জায়গা দখলের চেষ্টা চালানোর অভিযোগ উঠেছে। এ সময় ভুক্তভোগী ছকিনা বেগমের বাড়ির একটি গরুর ঘরও ভাঙচুর করা হয়। শুক্রবার (২ অক্টোবর) এই ঘটনায় চর জব্বার থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন তিনি।
ছকিনা বেগমের অভিযোগ, পৈতৃক সম্পত্তির পুরো অংশ দীর্ঘদিন ধরে তার দখলে রয়েছে। ঘটনার সময় তিনি বাড়িতে একা ছিলেন। এ সুযোগে প্রতিবেশী মো. ইউসুফের ছেলে ইব্রাহিম ও ইউসুফের স্ত্রী দেশীয় অস্ত্র দিয়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে সীমানার গাছপালা কেটে জায়গা দখলের চেষ্টা করেন। কেটে ফেলা গাছের মধ্যে কাঠগাছ, ফলজ ও সবজি গাছ রয়েছে। এ ছাড়া গরু রাখার ঘরও ভাঙচুর করা হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, কয়েক বছর আগে ইউসুফ ছকিনা বেগমের বাড়ির পশ্চিম পাশে কিছু জমি কিনেছেন। সম্প্রতি সেখানে বসবাসের পরিকল্পনা করায় ওই জমির পূর্ব পাশের অংশে সম্প্রসারণের চেষ্টা থেকে গাছ কাটার ঘটনা ঘটতে পারে। তবে জায়গাটির প্রকৃত মালিকানা বা সীমানা নির্ধারণের এখতিয়ার তাদের নেই বলে জানান তারা।
প্রত্যক্ষদর্শী মোসলে উদ্দিন বলেন, "জায়গাজমি নিয়ে বিরোধ ছিল, এটা আগে জানতেন না। ওই নারীর বিভিন্ন প্রজাতির ৫০টির বেশি গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। বাড়িটির পশ্চিম পাশে গিয়ে গাছ কাটার অংশ পড়ে থাকতে দেখেছেন তিনি।"
অভিযোগের বিষয়ে ইউসুফ বলেন, "ঘটনার সময় তিনি সেখানে ছিলেন না, ঘরে ঘুমিয়ে ছিলেন। পরে বিষয়টি জানতে পেরে তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন। তার ভাষ্য, কারও গাছপালা এভাবে কেটে ফেলা ঠিক হয়নি। তবে তার ছেলে ইব্রাহিম ও স্ত্রীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান তিনি।"
চর আমান উল্লাহ ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. ছিদ্দিক উল্ল্যাহ বলেন, "ঘটনার কথা শুনে আমরা ভুক্তভোগীর বাড়িতে গিয়েছি। এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে নিয়ে বিষয়টি স্থানীয়ভাবে সমাধানের চেষ্টা করা হবে। পাশাপাশি প্রকৃত ঘটনা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
চর জব্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল হাসান বলেন, "এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"