কুমিল্লার ঐতিহাসিক নওয়াব ফয়জুন্নেছা সরকারি কলেজের ক্যাম্পাসের দক্ষিণ প্রান্তে প্রায় ৭১ শতাংশ জমি দখলের চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ কাজে বাধা দিয়ে ওই স্থানে বালু ফেলা ও প্লটভিত্তিক বিক্রির পাঁয়তারা হচ্ছে বলে দাবি করেছেন কলেজ কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয়রা।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) সকালে লাকসাম উপজেলার কলেজ ক্যাম্পাসে এ ঘটনা ঘটে।
কলেজ সূত্রে জানা যায়, দক্ষিণ প্রান্তের আরএস ২২২২ দাগে অবস্থিত ওই জমিটি ওয়াকফ এস্টেটের অন্তর্ভুক্ত এবং প্রত্নতত্ত্ব সম্পদ হিসেবে সরকারি গেজেটে তালিকাভুক্ত রয়েছে। উপমহাদেশের নারী নবাব ফয়জুন্নেছা চৌধুরানী জনকল্যাণমূলক বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের জন্য প্রায় ২৯৭ একর জমি ওয়াকফ করে দিয়েছিলেন। সময়ের পরিবর্তনের সাথে সাথে ওই ওয়াকফ সম্পত্তির একটি বড় অংশ বিভিন্ন মাধ্যমে হাতবদল হয়েছে। সম্প্রতি সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ শুরু হলে একটি মহল শ্রমিকদের কাজে বাধা দেয় এবং জমির একটি অংশে বালু ফেলে দখলের চেষ্টা চালিয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, ওয়াকফ প্রশাসন ও প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের কার্যকর নজরদারির অভাবে দীর্ঘদিন ধরে এসব সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ তৈরি হয়েছে। তারা দ্রুত জমির সীমানা নির্ধারণ, সরকারি নথিপত্র যাচাই এবং সম্ভাব্য দখল ঠেকাতে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ফখরুল ইসলাম নামের এক শিক্ষক আশঙ্কা জানিয়ে বলেন, "জমিটি বেদখল হয়ে গেলে ভবিষ্যতে কলেজের অবকাঠামো সম্প্রসারণের পরিকল্পনা বাধাগ্রস্ত হতে পারে। পাশাপাশি ঐতিহাসিক এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সীমানা ও সম্পত্তির নিরাপত্তা নিয়েও জটিলতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।"
এদিকে কলেজ জমিতে বালু ফেলে দখল ও বিক্রির চেষ্টার অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত নাজমা আক্তারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি মুক্তকণ্ঠকে বলেন, "এখন কথা বলতে পারব না, রাতে কথা হবে।"
কলেজের অধ্যক্ষ মনির আহমেদ মুক্তকণ্ঠকে বলেন, "আমরা প্রশাসনকে জানিয়েছি। তারা ব্যবস্থা নেবে।"