কুমিল্লার লাকসামে কর্ণফুলী কমিউটার ট্রেনের ইঞ্জিনসহ তিনটি বগি লাইনচ্যুত হওয়ার ঘটনায় রেলওয়ের পথ বিভাগের ঊর্ধ্বতন উপসহকারী প্রকৌশলী (ফেনী) গোলাম সরোয়ারকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তা ফরহাম মাহমুদ।
ঘটনাটি ঘটেছে বুধবার (২১ অক্টোবর) দুপুর সাড়ে ১২টা ৩৫ মিনিটের দিকে। নাওটি স্টেশনের নিকটবর্তী লাঙ্গলকোট-লাকসাম সেকশনে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী ওই ট্রেনটির ইঞ্জিন ও তিনটি বগি লাইনচ্যুত হয়ে পড়ে। তবে এই দুর্ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। দুর্ঘটনার পরপরই ঢাকা অভিমুখী আপলাইনে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়, যদিও ডাউনলাইন দিয়ে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক ছিল।
প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, লাঙ্গলকোট-লাকসাম অংশে তখন রেললাইন মেরামতের কাজ চলছিল। ঠিক সেই সময়ে ঢাকাগামী কর্ণফুলী কমিউটার এক্সপ্রেস ট্রেনটি ওই লাইন দিয়ে যাওয়ার সময় তিনটি বগি লাইনচ্যুত হয়। এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় রেললাইনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মধ্যে সমন্বয়ের চরম অভাব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ট্রেনটির চালক মোয়াজ্জেম হোসেন অভিযোগ করে বলেন, “রেললাইনে মেরামতের কাজ চলার বিষয়ে আমাকে আগে থেকে কিছু জানানো হয়নি। এমনকি ট্রেন চলাচলে কোনো বিধিনিষেধও দেওয়া হয়নি।”
দুর্ঘটনার সেই মুহূর্তের বর্ণনা দিয়ে ট্রেনচালক আরও বলেন, “নাঙ্গলকোটে দাঁড়িয়ে ছিলাম। লাইন ক্লিয়ার দেওয়ার পর লাকসামের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করি। আমাকে কোনো রেস্ট্রিকশন দেওয়া হয়নি। মেরামতের কাজ চলছে, সাবধানে যেতে হবে এমন কোনো নির্দেশনা মাস্টার, কন্ট্রোল কিংবা গার্ড কেউই দেননি। এখানে যে কাজ চলছে, তা কেউ জানেই না। আমার অথরিটিও জানে না।”
তিনি আরও জানান, “প্রায় ১০০ মিটার দূরে লাল ব্যানার দেখতে পাই। এর মধ্যে ট্রেনের গতি কমাতে কমাতে বগিগুলো বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। ট্রেনের গতি ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৪৫ কিলোমিটার ছিল। আমি আমার যথাসাধ্য চেষ্টা করেছি।”
ট্রেনের তিনটি বগি লাইনচ্যুতির এই গুরুতর ঘটনার গভীরে যেতে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আগামী পাঁচ দিনের মধ্যে এই ঘটনার বিস্তারিত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
রেলওয়ের প্রাথমিক ভাষ্যমতে, আগে থেকে কোনো বিজ্ঞপ্তি বা নির্দেশনা না দিয়েই ওই অংশে রেললাইন মেরামতের কাজ চালানো হচ্ছিল। এই চরম গাফিলতা ও দায়িত্বে অবহেলার কারণেই সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীকে বরখাস্ত করা হয়েছে। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে এখন তদন্ত কমিটির রিপোর্টের জন্য অপেক্ষা করছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। দুর্ঘটনার পর দ্রুত উদ্ধারকারী ট্রেন ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাইনচ্যুত ইঞ্জিন ও বগি উদ্ধারের কাজ শুরু করে। উদ্ধারকাজ সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত আপলাইনে ট্রেন চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছিল।