কুমিল্লার লাকসামে কর্ণফুলী কমিউটার এক্সপ্রেস লাইনচ্যুত হওয়ার ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত রেললাইন মেরামতের কাজ শেষ হয়েছে। ফলে ঢাকামুখী বা আপলাইনটি ট্রেন চলাচলের উপযোগী ঘোষণা করা হলেও বাস্তবে এখনো ওই লাইনে কোনো ট্রেন চলাচল শুরু হয়নি। আজ বৃহস্পতিবার সকাল সাতটার দিকে মেরামতের কাজ শেষ হওয়ার পর লাইনটি উপযোগী বলে জানানো হয়, তবে বেলা ১১টা পর্যন্ত দুর্ঘটনাস্থল দিয়ে ওই লাইনে কোনো ট্রেন চলাচল করতে দেখা যায়নি।

রেলপথ কর্তৃপক্ষের দাবি, বর্তমানে ওই লাইন দিয়ে ট্রেন চলাচলে আর কোনো বাধা নেই। আজ সকাল ৯টা ৫২ মিনিটে মুক্তকণ্ঠের সাথে কথা বলেন লাকসাম রেলওয়ে জংশন স্টেশনের স্টেশনমাস্টার ওমর ফারুক ভূঁইয়া। তিনি এই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে আসা চট্টলা এক্সপ্রেস একটু পরেই দুর্ঘটনাস্থল অতিক্রম করবে।”

তবে বাস্তব চিত্র ছিল ভিন্ন। সকাল ১০টা ২৩ মিনিটে চট্টলা এক্সপ্রেস লাকসাম রেলওয়ে জংশন অতিক্রম করলেও তা আপলাইন নয়, বরং ডাউনলাইন বা চট্টগ্রামমুখী লাইন দিয়েই দুর্ঘটনাস্থল পার হয়। এরপর সকাল ১০টা ৪৮ মিনিটে একইভাবে চট্টগ্রাম থেকে সিলেটগামী পাহাড়িকা এক্সপ্রেসও লাকসাম রেলওয়ে জংশন অতিক্রম করে।

বেলা সোয়া ১১টার দিকে লাকসাম রেলওয়ে জংশন সূত্রে জানা গেছে, সকাল সাতটায় আপলাইন মেরামতের কাজ শেষ হলেও দুর্ঘটনাকবলিত ট্রেনের একটি বগি তখনও ঘটনাস্থলে পড়ে ছিল। এই বগির উপস্থিতির কারণে লাইনটি ফিট ঘোষণা করা হলেও প্রকৃতপক্ষে ট্রেন চালানো সম্ভব হয়নি। বগিটি সরিয়ে নেওয়ার জন্য এরই মধ্যে নাঙ্গলকোট স্টেশন থেকে একটি ইঞ্জিন ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে।

এর ফলে দেশের অন্যতম ব্যস্ততম ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথের এই নির্দিষ্ট এলাকায় প্রায় ২৪ ঘণ্টা ধরে আপলাইন বা ঢাকামুখী লাইনে ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে।

উল্লেখ্য, গতকাল বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে লাকসাম উপজেলার আজগরা বাজারসংলগ্ন নাওটি স্টেশনের আউটার এলাকায় কর্ণফুলী কমিউটার এক্সপ্রেসের ইঞ্জিনের তিনটি চাকাসহ পাঁচটি বগি লাইনচ্যুত হয়। এই দুর্ঘটনায় অন্তত সাতজন যাত্রী আহত হন, যারা স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা গ্রহণ করেন।

বুধবার সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম থেকে উদ্ধারকারী ট্রেন ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর লাইনচ্যুত ট্রেন সরানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়। আজ ভোর পাঁচটার দিকে ট্রেন উদ্ধারের কাজ সম্পন্ন হয় এবং সকাল সাতটার দিকে ক্ষতিগ্রস্ত রেললাইন মেরামতের কাজ শেষ হয়। দুর্ঘটনার পর থেকে ঢাকা–চট্টগ্রাম রেলপথের আপলাইন দিয়ে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। তবে ডাউনলাইন দিয়ে উভয় দিকের ট্রেন চলাচল চালু রাখা হয়েছিল, যার ফলে ট্রেন চলাচলে ব্যাপক বেগ পেতে হয়।

এদিকে দুর্ঘটনাস্থলে রেললাইন মেরামতের কাজ চললেও সেই বিষয়ে রেলওয়ের কন্ট্রোল রুমকে অবহিত না করার অভিযোগে প্রকৌশল বিভাগের উপসহকারী প্রকৌশলী সারোয়ার আলমকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।