কুমিল্লার লাকসাম ও মনোহরগঞ্জ এলাকার সমশেরপুর নুরে মদিনা ক্যাডেট মাদরাসার অবকাঠামোগত উন্নয়নে এগিয়ে এসেছেন প্রবাসী মিজানুর রহমান সুমন। প্রতিষ্ঠানটির নতুন ভবন নির্মাণের লক্ষ্যে তিনি ৫ লাখ টাকা অনুদান প্রদান করেছেন।

গত শনিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সকালে সমশেরপুর নুরে মদিনা ক্যাডেট মাদরাসা প্রাঙ্গণে এক অনুষ্ঠানে এই অনুদানের চেকটি হস্তান্তর করা হয়। মিজানুর রহমান সুমনের প্রতিনিধি হিসেবে ওমর ফারুক, সজিব মজুমদার ও মুরাদ মাদরাসার সেক্রেটারি আলমগীর হোসেনের কাছে ৫ লাখ টাকার চেকটি বুঝিয়ে দেন।

মাদরাসা কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটিতে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাওয়ায় শ্রেণিকক্ষের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছিল। পর্যাপ্ত কক্ষ না থাকায় পাঠদান কার্যক্রমে নানা ধরনের জটিলতা ও সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছিল। শিক্ষার্থীদের জন্য একটি মানসম্মত ও পাঠদানের উপযোগী পরিবেশ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে মাদরাসা কর্তৃপক্ষ নতুন ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করে। এই মহৎ উদ্যোগের আর্থিক সহায়তায় এগিয়ে এসেছেন প্রবাসী মিজানুর রহমান সুমন।

প্রবাসে অবস্থান করেও নিজ এলাকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে এই ধরনের পদক্ষেপ নেওয়াকে অত্যন্ত ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন মাদরাসা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ। তাদের মতে, একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো উন্নয়নে সহায়তা করা কেবল আর্থিক সাহায্য নয়, বরং এটি শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ গড়ার পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিনিয়োগ। মিজানুর রহমান সুমনের এই উদ্যোগ স্থানীয় পর্যায়ে শিক্ষার প্রসার ঘটাতে এবং শিক্ষার পরিবেশ উন্নত করতে অন্যদেরও অনুপ্রাণিত করবে বলে মনে করা হচ্ছে।

মাদরাসা কর্তৃপক্ষ আরও আশাবাদ ব্যক্ত করে জানিয়েছে, নতুন ভবনটি নির্মাণ সম্পন্ন হলে শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষ সংকট অনেকাংশে দূর হবে। এর ফলে পাঠদান কার্যক্রম আরও স্বাচ্ছন্দ্যময় হবে এবং শিক্ষার্থীদের জন্য একটি সুন্দর ও উপযোগী শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

প্রবাসী মিজানুর রহমান সুমনের এই উদার সহযোগিতার জন্য মাদরাসা কর্তৃপক্ষ এবং স্থানীয় বাসিন্দারা তাদের গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। তারা প্রত্যাশা করেন, ভবিষ্যতেও তিনি এবং অন্যান্য সামর্থ্যবান প্রবাসী ও স্থানীয় ব্যক্তিবর্গ এলাকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর উন্নয়ন ও শিক্ষার্থীদের কল্যাণে একইভাবে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেবেন।

সংশ্লিষ্টদের মতে, সমাজের বিত্তবান ও প্রবাসীরা যদি নিজ নিজ এলাকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামোগত উন্নয়নে এভাবে এগিয়ে আসেন, তবে শিক্ষার্থীদের জন্য আরও উন্নত ও আধুনিক পরিবেশ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। মিজানুর রহমান সুমনের ৫ লাখ টাকার এই অনুদান সেই মানবিক ও শিক্ষাবান্ধব উদ্যোগের একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ হিসেবে গণ্য হবে।