এশিয়ান গেমসে পরিবহন ব্যবস্থাপনায় আবারও বড় ভুল। পাকিস্তানের পর এবার শিকার দক্ষিণ কোরিয়া। দেশটির পুরুষ ভলিবল দলকে নির্ধারিত অনুশীলন ভেন্যুর বদলে প্রায় এক ঘণ্টা দূরের আরেক জায়গায় নিয়ে যায় আয়োজকদের দেওয়া বাস। এতে শেষ পর্যন্ত অনুশীলনই বাতিল করতে হয় দলটিকে।
সোমবার সকালে দক্ষিণ কোরিয়ার অনুশীলন করার কথা ছিল ইনুয়ামায়। কিন্তু আয়োজকদের শাটল বাস তাদের নিয়ে যায় ওকাজাকিতে।
কোরিয়া ভলিবল অ্যাসোসিয়েশনের এক কর্মকর্তা এএফপিকে বলেন, ‘আয়োজকদের দেওয়া শাটল বাস আমাদের দলকে ইনুয়ামার অনুশীলন ভেন্যুর বদলে ওকাজাকিতে নিয়ে যায়। ফিরে আসতে অনেক সময় লেগে যেত, তাই অনুশীলন বাতিল করতে হয়েছে।’
ঘটনাটি নিয়ে দক্ষিণ কোরিয়ার অলিম্পিক কমিটির মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক অভিযোগও জানিয়েছে দেশটি।
তবে মাঠের খেলায় এই বিভ্রাটের প্রভাব পড়েনি। পরে গ্রুপ পর্বে তাইওয়ানকে ৩-১ সেটে হারায় দক্ষিণ কোরিয়া।
এবারের এশিয়ান গেমসে এমন ঘটনা এটাই প্রথম নয়। গত সপ্তাহে দক্ষিণ কোরিয়ার পুরুষ বাস্কেটবল দলও একই ধরনের সমস্যায় পড়েছিল। জাপানের বিপক্ষে ফাইনালের আগে তাদের নির্ধারিত বাস সময়মতো না আসায় অনুশীলন করতে পারেনি দলটি। শেষ পর্যন্ত অবশ্য স্বর্ণপদক জেতে তারা।
সোমবারই আরেকটি পরিবহন বিভ্রাটের শিকার হয় পাকিস্তানের পুরুষ ভলিবল দল। উজবেকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচের আগে তাদের বাসও ভুল ভেন্যুতে চলে যায়। এতে ম্যাচ শুরু হতে ৪৫ মিনিট দেরি হয়।
পাকিস্তান অধিনায়ক মুরাদ জেহান বাস থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আয়োজকদের ব্যবস্থাপনা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
স্থানীয় আয়োজক কমিটি জানিয়েছে, পাকিস্তান ও দক্ষিণ কোরিয়া একই আবাসন থেকে রওনা হয়েছিল এবং দল ও গাড়ির গন্তব্য মেলানোর ক্ষেত্রে ভুল হয়েছিল।
আয়োজক কমিটির এক মুখপাত্র বলেন, ‘দুই দলই ভুল গন্তব্যের বাসে উঠে পড়েছিল। এতে তাদের যে অসুবিধা হয়েছে, তার জন্য আমরা আন্তরিকভাবে দুঃখিত।’
তিনি আরও জানান, ভবিষ্যতে দল ও বাসের গন্তব্য ঠিকভাবে যাচাই ও প্রদর্শনের ব্যবস্থা আরও কঠোর করা হবে।
১৭ হাজারের বেশি অ্যাথলেট ও কর্মকর্তাকে ঘিরে আয়োজিত আইচি-নাগোয়া এশিয়ান গেমসে শুরু থেকেই আবাসন ও পরিবহন নিয়ে বেশ কিছু অভিযোগ উঠেছে। সেই তালিকায় সর্বশেষ যোগ হলো দক্ষিণ কোরিয়ার ভলিবল দলের এই ঘটনা।