ফুটবলার ও ক্রীড়াসংগঠক রণজিত দাস আর নেই। আজ সোমবার সকাল ৬টা ৫৫ মিনিটের দিকে সিলেটের তালতল এলাকার পার্কভিউ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। রণজিত দাসের সন্তান নাট্যকার রীমা দাস মুক্তকণ্ঠকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
রণজিত দাসের বয়স হয়েছিল ৯৩ বছর। তিনি স্ত্রী, চার মেয়ে ও এক ছেলে রেখে গেছেন। রীমা দাস মুক্তকণ্ঠকে বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই রণজিত দাস বার্ধক্যজনিত নানা শারীরিক সমস্যায় ভুগছিলেন। সম্প্রতি সর্দি–কফ দেখা দিলে তাঁকে গত শনিবার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। আজ সকালে তাঁর মৃত্যু হয়। এখন তাঁর মরদেহ নগরের করেরপাড়া এলাকার বাসায় নিয়ে যাওয়া হবে। রাতে নগরের চালিবন্দর এলাকার শশ্মানে তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হবে। এর আগে শেষ শ্রদ্ধা জানানোর জন্য তাঁর মরদেহ নগরের চৌহাট্টা এলাকার সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে নিয়ে যাওয়ার কথা রয়েছে।
সিলেটের বাসিন্দা রণজিত দাস স্বাধীনতা-উত্তর এ উপমহাদেশের ক্রীড়াবিশ্বে অর্জন করেন বিপুল সম্মান ও খ্যাতি। এই গুণী খেলোয়াড় ফুটবলার হিসেবে ব্যাপকভাবে পরিচিতি অর্জন করেন। এ ছাড়া হকি ও ক্রিকেট খেলোয়াড় হিসেবেও খ্যাতি ছিল তাঁর। ১৯৩২ সালের ২৯ অক্টোবর সিলেট শহরের জিন্দাবাজার কুড়িটুলা এলাকায় তাঁর জন্ম হয়। তিনি পেশায় ব্যাংক কর্মকর্তা ছিলেন।
রণজিত দাস ১৯৫৫ থেকে ১৯৬৪ সাল পর্যন্ত পূর্ব পাকিস্তান ফুটবল দলের গোলকিপার হিসেবে পাকিস্তান জাতীয় ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপে অংশগ্রহণ করেন। এ সময় তিনি দুবার পূর্ব পাকিস্তান জাতীয় দলের অধিনায়ক ছিলেন। এ ছাড়া তিনি ঢাকায় প্রথম বিভাগ ফুটবল লিগসহ নানা গুরুত্বপূর্ণ প্রতিযোগিতায় অংশ নেন। ১৯৫৭ সালে কলকাতা মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের হয়ে খেলেছেন।
ফুটবলারের পাশাপাশি একজন হকি খেলোয়াড় হিসেবেও রণজিত দাসের যশ ও সুনাম ছিল। পূর্ব পাকিস্তান জাতীয় হকি দলের খেলোয়াড় হিসেবে জাতীয় হকি চ্যাম্পিয়নশিপে অংশ নিয়েছেন ১৯৬৫ থেকে ১৯৬৯ সাল পর্যন্ত। এ ছাড়া ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান হকি দল, প্রথম বিভাগ হকি লিগসহ নানা খেলায় অংশ নেন।
খেলাধুলার পাশাপাশি একজন ক্রীড়াসংগঠক হিসেবেও রণজিত দাস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন ঢাকার প্রতিষ্ঠাতা যুগ্ম সভাপতি, পূর্ব পাকিস্তান স্পোর্টস ফেডারেশন ঢাকার নির্বাহী কমিটির সদস্য, ঢাকার আজাদ স্পোর্টিং ক্লাবের ফুটবল সম্পাদক ও কোচ, পূর্ব পাকিস্তান যুব ফুটবল দলের কোচসহ নানা গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন।
রণজিত দাস ২০০৭ সালে বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কারে ভূষিত হন। এ ছাড়া ক্রীড়াক্ষেত্রে অবদানের জন্য ২০০৬ সালে মুক্তকণ্ঠ-গ্রামীণফোন আজীবন সম্মাননা এবং ২০০২ সালে ‘৫০-৬০ দশকের কৃতী ফুটবলার’ হিসেবে মুক্তকণ্ঠ-স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের উদ্যোগে গুণীজন সংবর্ধনা পান। এর বাইরেও তিনি অসংখ্য পদক-সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন। ‘ক্রীড়াঙ্গনের ফেলে আসা দিনগুলো’ (২০২৫) নামে তাঁর একটি স্মৃতিচারণমূলক বইও প্রকাশিত হয়েছে।






