টাঙ্গাইলের সখীপুরে সাপের কামড়ে মৃত এক নারীকে দাফনের দুই দিন পর পুনরায় ‘জীবিত’ করার অদ্ভুত দাবি করে আলোচনায় এসেছেন এক ওঝা। কবরের পাশে গর্ত খুঁড়ে এবং ঝাড়ফুঁকের মাধ্যমে প্রাণ ফিরিয়ে দেওয়ার এই দাবি ঘিরে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।

ঘটনাটি ঘটেছে শনিবার (১৫ আগস্ট) উপজেলার চতলবাইদ গ্রামে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওই ওঝার ঝাড়ফুঁকের ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র কৌতূহল ও মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। জানা গেছে, ওই ওঝার নাম গাজী মিয়া, যার বাড়ি পাশের বাসাইল উপজেলার কৈলাণপুর গ্রামে। আর মৃত হাসনা বেগম (৫৮) সখীপুর উপজেলার হতেয়া-ভাতকুড়াচালা এলাকার বাসিন্দা ছিলেন।

পুলিশ ও নিহতের স্বজনদের সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) বিষধর সাপের কামড়ে অসুস্থ হয়ে পড়লে হাসনা বেগমকে সখীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এরপর চতলবাইদ গ্রামে তার মেয়ের বাড়ির পাশে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

স্থানীয়দের মতে, সাপে কাটার খবর পেয়ে শনিবার চতলবাইদ গ্রামে হাজির হন ওঝা গাজী মিয়া। তিনি দাবি করেন, হাসনা বেগম আসলে মারা যাননি। এরপর কবরের এক পাশে ছোট সুড়ঙ্গ করে ঘ্রাণ নিয়ে তিনি জানান যে, তিনি তেলের সুবাস পাচ্ছেন এবং উপস্থিত উৎসুক জনতাকেও ঘ্রাণ নিতে বাধ্য করেন।

মৃতের মেয়ে খালেদা বেগমকে আশ্বস্ত করে ওঝা জানান, মঙ্গলবার পুনরায় এসে পরীক্ষা করার পর যদি দুর্গন্ধ না পাওয়া যায়, তবে ঝাড়ফুঁক দিয়ে বিষ নামিয়ে তার মাকে জীবিত করা সম্ভব হবে। তবে রোববার ঘটনাটি নাটকীয় মোড় নেয়। ওই ওঝা মোবাইল ফোনে মৃতের মেয়েকে জানান—রাতে ধ্যানে বসে তিনি নাকি দেখেছেন রোগী আর বেঁচে নেই।

এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে ওঝা গাজী মিয়া বলেন, "গতকাল তিনি জীবিত ছিলেন। এখন ওই রোগীকে বাঁচানো সম্ভব নয়। তিনি চলে গেছেন।"

এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে সখীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ড. রেহেনা পারভীন বলেন, "একজন মানুষকে চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে মৃত ঘোষণার পর দাফন করা হয়েছে। সেই মানুষ আবার বেঁচে উঠবেন—এমন দাবি সম্পূর্ণ অবৈজ্ঞানিক ও কল্পকাহিনি। সমাজকে বিভ্রান্ত করা এমন ভন্ড ওঝাকে দ্রুত আইনের আওতায় আনা প্রয়োজন।"

তিনি আরও পরামর্শ দেন যে, সাপে কাটা রোগীদের ওঝার কাছে না নিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে নিকটস্থ সরকারি হাসপাতালে নেওয়া উচিত।