ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলায় নিষিদ্ধ পিরানহা মাছ চাষের অভিযোগে অভিযান চালিয়ে প্রায় ছয় মণ মাছ জব্দ করেছে উপজেলা প্রশাসন। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের সংলগ্ন একটি পুকুর থেকে ওই মাছগুলো উদ্ধার করে তাৎক্ষণিকভাবে ধ্বংস করা হয়।
অভিযানে নেতৃত্ব দেন হালুয়াঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফয়সল আহমেদ। এ সময় উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা এবং থানা পুলিশের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, বিদ্যালয়ের পুকুরটি তিন বছরের জন্য ইজারা নিয়ে আলম নামে এক ব্যক্তি মাছ চাষ করছিলেন। শনিবার বিকেলে টিকিটের বিনিময়ে ওই পুকুরে টিকিট কেটে বরশিতে মাছ ধরার আয়োজন করা হয়। এতে বিভিন্ন এলাকা থেকে অনেক শৌখিন মৎস্যশিকারি অংশ নেন। মাছ ধরার একপর্যায়ে কয়েকজন শিকারির বরশিতে পিরানহা মাছ উঠে আসে। বিষয়টি প্রশাসনের নজরে এলে দ্রুত ঘটনাস্থলে যান ইউএনও।
পরবর্তীতে জেলেদের সহায়তায় পুকুরে জাল টেনে বিপুল পরিমাণ পিরানহা ধরা পড়ে। প্রশাসনের হিসাবে জব্দকৃত মাছের পরিমাণ প্রায় ছয় মণ। পরবর্তীতে পরিবেশ রক্ষায় মাছগুলো মাটিতে পুঁতে ধ্বংস করা হয়। তবে অভিযানের সময় পুকুরের ইজারাদারকে সেখানে পাওয়া যায়নি।
মৎস্যশিকারিরা জানান, ক্ষতিকর ও নিষিদ্ধ পিরানহা মাছ জব্দ করার বিষয়ে তাদের কোনো আপত্তি নেই। তবে মাছ ধরার টিকিট কেনাসহ যাতায়াত খরচের ক্ষতিপূরণ দাবি করছেন তারা। এ বিষয়ে ইউএনওর কাছে লিখিত আবেদনও করা হয়েছে।
হালুয়াঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফয়সল আহমেদ বলেন, "পিরানহা অত্যন্ত হিংস্র ও শিকারি মাছ। এটি দেশীয় মৎস্যসম্পদ এবং জলজ বাস্তুতন্ত্রের জন্য চরম হুমকি।" তিনি জানান, জব্দ করা মাছগুলো তাৎক্ষণিকভাবে ধ্বংস করা হয়েছে।
ইউএনও আরও জানান, নিষিদ্ধ পিরানহা চাষের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি মাছ ধরতে এসে ক্ষতিগ্রস্ত শিকারিদের আবেদনের বিষয়টিও বিবেচনা করা হবে।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, "দেশীয় মাছ ও জলজ পরিবেশ রক্ষায় নিষিদ্ধ প্রজাতির মাছ চাষ, সংরক্ষণ, পরিবহন ও বাজারজাতকরণ বন্ধে উপজেলা প্রশাসনের এ ধরকের তদারকি ও অভিযান অব্যাহত থাকবে।"