ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট সীমান্ত এলাকায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) গুলিতে এক যুবক নিহত হয়েছেন। আজ সোমবার ভোরে উপজেলার জলজলিয়া এলাকায় এই ঘটনাটি ঘটে। বিজিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, চোরাচালানবিরোধী অভিযান পরিচালনার সময় টহল দলের ওপর হামলা চালানো হলে আত্মরক্ষার তাগিদে গুলি ছোড়া হয়। এই সংঘর্ষে বিজিবির একজন সদস্য আহত হয়েছেন, যিনি বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
নিহত ব্যক্তির নাম মো. রুমান (৩২)। তিনি হালুয়াঘাট উপজেলার ভুবনকুড়া ইউনিয়নের জলজলিয়া গ্রামের বাসিন্দা বলে জানা গেছে।
আজ সকালে ময়মনসিংহ ব্যাটালিয়ন (৩৯ বিজিবি) থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়। ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. নুরুল আজিম বায়েজীদ পুরো বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
বিজিবির ওই বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, আজ সকাল পৌনে ছয়টার দিকে শূন্যরেখা থেকে বাংলাদেশের প্রায় এক কিলোমিটার ভেতরে জলজলিয়া এলাকায় চোরাচালানবিরোধী অভিযান চালানো হয়। অভিযানে চার সদস্যের একটি টহল দল চোরাচালানের পণ্য জব্দ করতে সক্ষম হয়। তবে জব্দ করা পণ্য নিয়ে ফেরার পথে দেশীয় অস্ত্র হাতে একদল সংঘবদ্ধ চোরাকারবারি হঠাৎ করে টহল দলের ওপর আক্রমণ চালায়।
বিজিবির দাবি অনুযায়ী, প্রথমে হামলাকারীদের মৌখিকভাবে সতর্ক করা হয় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সতর্কতামূলক ফাঁকা গুলি ছোড়া হয়। তা সত্ত্বেও দেশীয় অস্ত্র দিয়ে হামলা অব্যাহত রাখা হলে বিজিবির একজন সদস্য আহত হন। এই চরম অবস্থায় নিজেদের জীবন এবং সরকারি সম্পদ রক্ষা করতে বিজিবির সদস্যরা আত্মরক্ষামূলক গুলি ছোড়েন। এতে রুমান গুলিবিদ্ধ হন। পরবর্তীতে তাঁকে দ্রুত হালুয়াঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত বিজিবি সদস্যও ওই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেই চিকিৎসাধীন আছেন।
এই ঘটনার প্রেক্ষিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে মুক্তকণ্ঠকে জানিয়েছেন হালুয়াঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জালাল উদ্দিন।
বিজিবি আরও জানিয়েছে, সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে এই ঘটনার প্রেক্ষিতে মামলা করার প্রক্রিয়া currently চলছে। সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান প্রতিরোধে তাদের নিয়মিত অভিযান ও টহল কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।