ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট সীমান্ত এলাকায় বিজিবির এক চোরাচালানবিরোধী অভিযানের সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে রুমান মিয়া (৩০) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। এই ঘটনায় বিজিবির একজন সদস্য আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে ওই বাহিনী।

সোমবার (১২ অক্টোবর) ভোরবেলায় উপজেলার তেলিখালী বিওপির সীমান্তের শূন্যরেখা থেকে প্রায় এক কিলোমিটার ভেতরে ঝলঝলিয়া নামক স্থানে এই ঘটনাটি ঘটে। নিহত রুমান মিয়া উপজেলার এক নম্বর ভূবনকুড়া ইউনিয়নের বেতকুড়ী গ্রামের আলাল উদ্দিনের ছেলে। তিনি স্থানীয় বাঘাইতলা বাজারের ইজারাদার হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

ঘটনার বিষয়ে নিহত রুমানের ছোট ভাই আবু রাইহানের দাবি, রাতে এলাকায় বিজিবি সদস্যরা গরু খুঁজছিলেন। সেই সময় স্থানীয়দের কাছ থেকে ফোন পেয়ে তার ভাই ঝলঝলিয়া গ্রামে যান। সেখানে বাঘাইতলা বাজারের ইজারাসংক্রান্ত কাগজপত্র নিয়ে বিজিবির সাথে তার কথা কাটাকাটি ও তর্কবিতর্ক হয়। আবু রাইহানের অভিযোগ, “এর একপর্যায়ে বিজিবির সদস্যরা তাকে গুলি করে।”

তিনি আরও অভিযোগ করে বলেন, “ভোর সাড়ে ৪টার দিকে গুলি করা হলেও আমার ভাইকে প্রায় তিন ঘণ্টা আহত অবস্থায় ঘটনাস্থলে আটকে রাখা হয়। এ সময় তাকে হাসপাতালে নিতে দেওয়া হয়নি এবং কাউকে কাছেও যেতে দেওয়া হয়নি।”

পরিবারের সদস্যদের দাবি, সকাল ৭টার পর রুমানকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং চিকিৎসকরা জানান যে হাসপাতালে আনার আগেই তার মৃত্যু হয়েছে। তাদের মতে, সময়মতো চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হলে হয়তো তাকে বাঁচানো সম্ভব হতো।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ফজরের নামাজের পর গুলিবর্ষণের খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি হয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। সঠিক বিচারের দাবিতে স্থানীয়রা হালুয়াঘাটে সড়ক অবরোধ করেছেন।

অন্যদিকে, ঘটনার পর সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ময়মনসিংহ ব্যাটালিয়নের (৩৯ বিজিবি) লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. নুরুল আজিম বায়েজীদ এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে ভিন্ন কথা জানিয়েছেন। তিনি জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সোমবার ভোর পৌনে ৬টার দিকে বিজিবির একটি টহল দল জলজলিয়া এলাকায় চোরাচালানবিরোধী অভিযান পরিচালনা করে। সেই সময় চোরাকারবারিরা টহল দলের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রথমে বিজিবি সদস্যরা মৌখিকভাবে সতর্ক করেন এবং সতর্কতামূলক ফাঁকা গুলি ছোড়েন। তবে হামলাকারীরা সতর্কবার্তা উপেক্ষা করে পুনরায় হামলা চালালে বিজিবির এক সদস্য আহত হন। এরপর নিজেদের জীবন ও সরকারি সম্পদ রক্ষায় আত্মরক্ষার্থে গুলি চালানো হলে রুমান মিয়া গুলিবিদ্ধ হন।

বিজিবি আরও জানিয়েছে, গুলিবিদ্ধ রুমানকে হালুয়াঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এই ঘটনায় সরকারি কাজে বাধা প্রদান ও হামলার অভিযোগে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।

হালুয়াঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জালাল উদ্দিন এই বিষয়ে বলেন, “বিজিবির গুলিতে একজন মারা গেছেন। তবে আসলে কীভাবে কী হয়েছে, তা তদন্তসাপেক্ষে বলা যাবে।”