স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিইডি) প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেছেন, জামায়াত দল হিসেবে অকৃতজ্ঞ। সশ্রদ্ধেয় খালেদা জিয়া ২০০১ সালে জামায়াতের দুই নেতাকে মন্ত্রীত্ব দিয়েছিলেন, যাতে তাদের রাজাকারের তকমা দূর হয়। জামায়াত এখন সব ভুলে গেছে বলে।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে বন্যা দুর্গতদের জন্য জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে গৃহনির্মাণ তহবিলের চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
গত জুলাইয়ে চট্টগ্রামের বাঁশখালী ও সাতকানিয়ায় ভয়াবহ বন্যায় বাঁশখালী উপজেলাতেই প্রায় ১২ হাজার ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পুনর্বাসন সহায়তার অংশ হিসেবে জেলা পরিষদের আয়োজনে বিধ্বস্ত ৫১০টি পরিবারকে গৃহনির্মাণের জন্য ৩০ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তার চেক তুলে দেন প্রতিমন্ত্রী।
এলজিইডি প্রতিমন্ত্রী বলেন, নামের পাশে যে রাজাকার লেখা সেখান থেকে কিছুটা হলেও মুক্তি দিতে ২০০১ সালে নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া তাদের দুই নেতার গাড়িতে পতাকা তুলে দিয়েছিলেন। ভুলে গেছেন, বেমালুম ভুলে গেছেন।
তিনি বলেন, এ সরকার জনগণের সরকার, দুই তৃতীয়াংশ ভোটে নির্বাচিত। অথচ ছয় মাস না যেতে তারা এখন লংমার্চ করে সরকার পতনের হুমকি দেয়। জামায়াতের
মীর শাহে আলম বলেন, জনগণের দুই-তৃতীয়াংশ ভোটে নির্বাচিত এই সরকারের বয়স মাত্র ছয় মাস। অথচ এর মধ্যে একটি গোষ্ঠী লংমার্চের নামে সরকার উৎখাতের পাঁয়তারা করছে। ভারতে পলাতক নেতাদের সঙ্গে এনসিপি ও জামায়াতের পুরনো গোপন যোগাযোগ আবার জোরদার হচ্ছে। দেশে তারা যে আন্দোলনের নাটক করছে, তা মূলত আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসিত করার চক্রান্ত।
১১-দলীয় জোট ও এনসিপির নেতাদের সমালোচনা করে তিনি বলেন, জোটের নেতারা সংসদে এক কথা বলেন, বাইরে এসে ভিন্ন অভিনয় করেন। এনসিপির নবীন নেতাদের রাজনৈতিক শিষ্টাচার নেই; তারেক রহমানকে নিয়ে তারা যে কুরুচিপূর্ণ ভাষায় কথা বলছেন, তা বরদাস্ত করা হবে না। বিএনপি কোনো হুমকিতে ভয় পায় না।
তিনি বলেন, আগামী বছরের জানুয়ারিতে উপজেলা নির্বাচন হবে। উপজেলা নির্বাচনে বিএনপি একক প্রার্থী সমর্থন দেবে। দলের সিদ্ধান্ত অমান্য করে কেউ বিদ্রোহী প্রার্থী হলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে গত নির্বাচনে যারা দলের সঙ্গে বেঈমানি করেছে, তাদের বিএনপিতে ফেরানো হবে না। কেবল দুঃসময়ের ত্যাগী নেতাকর্মীরা মূল্যায়িত হবেন।