আজ আইচি-নাগোয়া এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের উশু কন্যা জিন্নাত আক্তারের সোনা বা রুপার স্বপ্ন শেষ হয়ে গেল। মেয়েদের ৫২ কেজি ওজন শ্রেণির সেমিফাইনালে তিনি হেরে গেছেন চীনের বিশ্বমানের শীর্ষস্থানীয় প্রতিযোগী উ দি-র কাছে। তবে এই হারের পরও তাঁর ব্রোঞ্জ পদক পাওয়া নিশ্চিত। ফাইনালে ওঠা না হলেও গতকাল সেমিফাইনালে ওঠার মাধ্যমেই ব্রোঞ্জ নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল তাঁর। এই ইভেন্টে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ না থাকায় দুই সেমিফাইনালের পরাজিত খেলোয়াড়ই ব্রোঞ্জ পাবেন। আগামীকাল ফাইনাল শেষে জিন্নাতের গলায় আনুষ্ঠানিকভাবে ঝোলানো হবে এই ঐতিহাসিক ব্রোঞ্জ পদক।
সেমিফাইনালে প্রথম রাউন্ডে দুই মিনিটের মধ্যে ১ মিনিট ৩৫ সেকেন্ড পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যান জিন্নাত। এই সময়ের মধ্যে তিনি দুবার পড়ে যান। প্রতিপক্ষ ৪-০ পয়েন্টে জিতে যায়। ফলে পরের দুই মিনিট আর খেলার প্রয়োজন হয়নি।
সেমিফাইনালে হারলেও জিন্নাতের হাত ধরে দীর্ঘ ৪০ বছর পর এশিয়ান গেমসের ব্যক্তিগত ইভেন্টে পদকের খরা কাটল বাংলাদেশের। ১৯৭৮ সাল থেকে এশিয়ান গেমসে অংশ নেওয়া বাংলাদেশের ঝুলিতে ক্রিকেট ও কাবাডির মতো দলীয় ইভেন্টে সোনা-রুপা থাকলেও ব্যক্তিগত পদক ছিল মাত্র একটি। ১৯৮৬ সালের সিউল এশিয়ান গেমসে প্রথম ও শেষবারের মতো ব্যক্তিগত ইভেন্টে ব্রোঞ্জ জিতেছিলেন বক্সার মোশাররফ হোসেন। এরপর চার দশক ধরে কোনো বাংলাদেশি অ্যাথলেট একক ইভেন্টে মেডেলের দেখা পাননি। অবশেষে আইচি-নাগোয়া এশিয়ান গেমসে সেই আক্ষেপ ঘোচালেন নেত্রকোনার ২৩ বছর বয়সী এই তরুণী।
এবারের আসরে জিন্নাতের ব্রোঞ্জ নিশ্চিতের পথটি ছিল নাটকীয়। ১৫ জন প্রতিযোগীর এই ইভেন্টে প্রথম রাউন্ডে বাই পেয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠেন তিনি। সেখানে তাঁর মুখোমুখি হওয়ার কথা ছিল ইন্দোনেশিয়ার খেলোয়াড় তারিসা দিয়া ফ্লোরেন্তিনার। তবে অতিরিক্ত ওজনের কারণে প্রতিযোগিতা থেকে ফ্লোরেন্তিনা ডিসকোয়ালিফাইড হয়ে যান। ফলে রিংয়ে না নেমেই জিন্নাতকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়, যা তাঁকে সরাসরি সেমিফাইনালে তোলার পাশাপাশি ব্রোঞ্জ পদক নিশ্চিত করে দেয়।