জাপানে অনুষ্ঠিত আইচি-নাগোয়া এশিয়ান গেমসে ১৮৭ জন ক্রীড়াবিদ নিয়ে অংশগ্রহণ করেছিল বাংলাদেশ। তবে দীর্ঘ লড়াই শেষে মাত্র একটি পদক নিয়ে দেশে ফিরছে লাল-সবুজের প্রতিনিধি দল। চূড়ান্ত পদক তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান হয়েছে ৩৭তম।
পুরো অভিযানে বাংলাদেশের একমাত্র পদকটি এসেছে উশু ইভেন্ট থেকে। মেয়েদের ৫২ কেজি বিভাগে জিন্নাত আক্তার ব্রোঞ্জ জয় করেন। এই একটি পদকই শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের সামগ্রিক অর্জনের একমাত্র প্রাপ্তি হয়ে দাঁড়িয়েছে। উল্লেখ্য, জিন্নাত আক্তারের এই ব্রোঞ্জ জয় ১৯৮৬ সালের পর এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের প্রথম ব্যক্তিগত পদক হিসেবে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।
অন্যদিকে, এশিয়ান গেমসে নিজেদের একচ্ছত্র আধিপত্য বজায় রেখেছে চীন। ১৬৯টি সোনা, ৮৯টি রুপা ও ৮৩টি ব্রোঞ্জসহ মোট ৩৪১টি পদক জিতে বিশাল ব্যবধানে তালিকার শীর্ষে থেকে আসর শেষ করেছে তারা। স্বাগতিক জাপান ৮৩টি সোনা, ৯৫টি রুপা ও ৯১টি ব্রোঞ্জসহ মোট ২৬৯টি পদক নিয়ে দ্বিতীয় স্থান দখল করেছে। তৃতীয় স্থানে রয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া, যাদের সংগ্রহ ৩৯টি সোনা, ৪৩টি রুপা ও ৬৮টি ব্রোঞ্জসহ মোট ১৫০টি পদক।
চতুর্থ স্থানটি পেয়েছে ভারত। আসরের শেষ দিকে বেশ কয়েকটি সোনা জিতে তারা ২১টি সোনা, ২৭টি রুপা ও ৩৭টি ব্রোঞ্জসহ মোট ৮৫টি পদক সংগ্রহ করেছে। অন্যদিকে, উজবেকিস্তানও ২১টি সোনা জিতলেও রুপার সংখ্যা কম হওয়ায় মোট ৭০টি পদক নিয়ে পঞ্চম স্থানে অবস্থান করছে।
বাংলাদেশের জন্য এবারের আসরটি ছিল চরম হতাশাজনক। বিশেষ করে ক্রিকেটে পুরুষ ও নারী উভয় দলই পদকের লড়াইয়ে ছিল, কিন্তু শেষ পর্যন্ত কেউ সফল হতে পারেনি। পুরুষ দল ব্রোঞ্জের ম্যাচে শ্রীলঙ্কার কাছে ৬৩ রানে পরাজিত হয়। এশিয়ান গেমসে ক্রিকেট অন্তর্ভুক্ত হওয়ার পর এবারই প্রথম এই ইভেন্ট থেকে পদকশূন্য হয়ে ফিরল বাংলাদেশ।
পদক তালিকায় বাংলাদেশের নিচে অবস্থান করছে ব্রুনেই, লাওস ও সিরিয়া। এই তিনটি দেশও একটি করে ব্রোঞ্জ জিতেছে। তবে পদকের ধরন এবং অন্যান্য টাইব্রেকার হিসাবের ভিত্তিতে বাংলাদেশকে ৩৭তম স্থানে রাখা হয়েছে।
গত ১৯ সেপ্টেম্বর শুরু হওয়া ২০তম এশিয়ান গেমস শেষ হয়েছে ৪ অক্টোবর। এবারের আসরে মোট ৪৬৯টি সোনার লড়াই হয়েছে। আগামী ২০৩০ সালে কাতারের দোহায় অনুষ্ঠিত হবে পরবর্তী এশিয়ান গেমস।