জাপানে অনুষ্ঠিত এশিয়ান গেমসের সময় প্রবল বৃষ্টির কারণে পর্যাপ্ত অনুশীলন করতে পারেননি বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা। সেই প্রস্তুতির ঘাটতি কাটিয়ে ওঠার আগেই টেস্ট দলের সদস্যদের মাঠে নামতে হচ্ছে। এর পাশাপাশি জাপানের শীতল আবহাওয়া ছেড়ে সরাসরি সংযুক্ত আরব আমিরাতের তীব্র গরমের মধ্যে খেলতে হবে তাদের। আফগানিস্তানের বিপক্ষে একমাত্র টেস্ট ম্যাচের আগে এই প্রতিকূল পরিস্থিতিই প্রধান কোচ ফিল সিমন্সকে ভাবাচ্ছে।
আগামী শুক্রবার (৯ অক্টোবর) আবুধাবির শেখ জায়েদ স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ ও আফগানিস্তানের মধ্যকার একমাত্র টেস্ট শুরু হওয়ার কথা। এশিয়ান গেমস থেকে ফিরে আসা ক্রিকেটাররা গত মঙ্গলবার দলের সাথে একত্রিত হয়েছেন। বুধবার আবুধাবির প্রচণ্ড গরমে তারা প্রথমবারের মতো অনুশীলনে অংশ নেন।
এশিয়ান গেমসে বৃষ্টির কারণে ক্রিকেটারদের অধিকাংশ সময় হোটেলের ভেতরেই কাটাতে হয়েছে। ফলে যথাযথ প্রস্তুতি ছাড়াই তাদের আমিরাতে পৌঁছাতে হয়েছে। তবে ফিল সিমন্স মনে করেন, নতুন পরিবেশের সাথে খাপ খাইয়ে নেওয়ার এই চ্যালেঞ্জটি কেবল শারীরিক নয়, বরং মানসিক লড়াইয়েরও বিষয়।
বুধবার অনুশীলনের পর সিমন্স বলেন, ‘এ মুহূর্তে এটাই আমাদের একমাত্র সমস্যা। জাপান থেকে আসা ক্রিকেটাররা সেখানে খুব একটা অনুশীলনের সুযোগ পায়নি। এখন তাদের এই আবহাওয়ায় মানিয়ে নিতে হচ্ছে।’
কোচের হাতে সময় খুব সীমিত। টেস্ট ম্যাচ শুরুর আগে আবুধাবির এই গরমে অনুশীলনের সুযোগ মিলছে মাত্র দুই দিন। তবে প্রথম দিনের অনুশীলন পর্যবেক্ষণ করে আশাবাদী হয়েছেন সিমন্স।
তার ভাষায়, ‘এই আবহাওয়ায় দুই দিনে তারা কতটা মানিয়ে নিতে পারে, সেটাই মূল বিষয়। শেষ পর্যন্ত এটি মানসিক ব্যাপারও। আজ গরমে প্রথম দিনের অনুশীলনে তাদের ভালোই মনে হয়েছে।’
উল্লেখ্য যে, বাংলাদেশ দলের একটি অংশ আগেই আমিরাতে পৌঁছে প্রস্তুতি শুরু করেছিল। তারা দুবাইয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিপক্ষে দুই দিনের একটি প্রস্তুতি ম্যাচও খেলেছে। তবে এশিয়ান গেমসে অংশগ্রহণকারী ক্রিকেটাররা সেই সুযোগ পাননি।
কেবল আবহাওয়া নয়, আবুধাবির উইকেট নিয়েও সতর্ক অবস্থানে আছেন সিমন্স। তার ধারণা, উইকেট ব্যাটিংয়ের জন্য অনুকূল হলেও কিছুটা মন্থর হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে আফগানিস্তানের স্পিনারদের মোকাবিলা করা বাংলাদেশের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।
উইকেট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘উইকেট দেখে ভালোই মনে হচ্ছে। কিছুটা মন্থর হতে পারে, তবে আমার মনে হয় ভালো উইকেটই হবে। আমরা সেই অনুযায়ী প্রস্তুতি নিচ্ছি। জানি, আমাদের বেশ কয়েকজন স্পিনারের মুখোমুখি হতে হবে। সেভাবেই নিজেদের তৈরি করছি।’
সামগ্রিক প্রস্তুতি নিয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন প্রধান কোচ। তার মতে, ক্রিকেটাররা অনুশীলনে যথেষ্ট পরিশ্রম করেছেন এবং এখন মাঠে সেই প্রস্তুতির প্রতিফলন ঘটানোর অপেক্ষা।