এশিয়ান গেমসের ব্রোঞ্জ পদক নির্ধারণী ম্যাচে শুরুটা দারুণ হলেও শেষ পর্যন্ত শ্রীলঙ্কাকে ১৬৫ রান তুলতে দেখল বাংলাদেশ। ২০ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে এই সংগ্রহ গড়ে তোলা লঙ্কানদের জয়ের জন্য এখন ১৬৬ রান করতে হবে টাইগারদের।

নিশিনের কোরোগি স্পোর্টস পার্কে টস জিতে প্রথমে ব্যাটিং করার সিদ্ধান্ত নেয় শ্রীলঙ্কা। তবে শুরুতেই তাদের ব্যাটিং বিপর্যয়ের মুখে ফেলে দেয় বাংলাদেশের বোলাররা। মাত্র ২১ রানের মধ্যেই চার উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় তারা। ইনিংসের তৃতীয় ওভারে শেখ মেহেদী হাসান সিনেথ জয়াবর্ধনে ও লাসিথ ক্রুসপুলেকে আউট করে বড় ধাক্কা দেন। পরের ওভারেই অভিষিক্ত আলিস আল ইসলাম নুয়ানিদু ফার্নান্দোকে বোল্ড করেন এবং রানআউটে বিদায় নেন সোহান ডি লিভেরা। ৩.৫ ওভারে শ্রীলঙ্কার স্কোর ছিল ২১/৪।

এরপর সাহান আরাচ্চিগে ও আশেন বান্দারা কিছুটা প্রতিরোধ গড়ে তুললেও রিশাদ হোসেন বান্দারাকে ১৮ রানে ফিরিয়ে সেই জুটি ভেঙে দেন। ১০.৫ ওভারে শ্রীলঙ্কার সংগ্রহ দাঁড়ায় ৫ উইকেটে ৫৪ রান।

ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন থারিন্দু রাত্নায়েকে। অধিনায়ক আরাচ্চিগেকে সঙ্গে নিয়ে ষষ্ঠ উইকেটে ৯৩ রানের একটি বিধ্বংসী জুটি গড়েন তিনি। বাংলাদেশের বোলারদের ওপর পাল্টা আক্রমণ চালিয়ে মাত্র ৩২ বলে ৭টি চার ও ৫টি ছক্কায় ৬৫ রান করেন রাত্নায়েকে, যার স্ট্রাইক রেট ছিল ২০৩.১২। ২৬ বলে পূর্ণ করেন তার অর্ধশতক।

১৮তম ওভারের প্রথম বলে রাত্নায়েকেকে আউট করে স্বস্তি ফেরান মোস্তাফিজুর রহমান। ওই ওভারেই তিনি দুশান হেমান্থাকেও ফিরিয়ে নেন। শেষ ওভারে সাইফ হাসান আরাচ্চিগে (৩৩ রান) ও বিজয়কান্ত ভিয়াসকান্তকে আউট করেন। তবে শেষ পাঁচ ওভারে ৬১ রান তুলে নেয় শ্রীলঙ্কা, যার ফলে ৫৪/৫ থেকে তারা ১৬৫ রানে পৌঁছে যায়।

বাংলাদেশের হয়ে সবচেয়ে মিতব্যয়ী ছিলেন মেহেদী হাসান, যিনি ৪ ওভারে মাত্র ১৯ রান দিয়ে ২ উইকেট নেন। অভিষিক্ত আলিস ১৮ রান দিয়ে পান ১ উইকেট। সাইফ হাসান ২৮ রানে এবং মোস্তাফিজ ৪৩ রানে দুটি করে উইকেট নেন। রিশাদ হোসেন পান একটি উইকেট। তবে অতিরিক্ত রান ছিল বাংলাদেশের জন্য বড় মাথাব্যথা; ১৭টি ওয়াইডসহ মোট ২২ রান এক্সট্রা থেকে পেয়েছে শ্রীলঙ্কা।

এখন ব্রোঞ্জ পদক নিশ্চিত করতে ২০ ওভারে ১৬৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করবে বাংলাদেশ।