বৃষ্টির কারণে ১৩ ওভারে সীমিত হয়ে যাওয়া এশিয়ান গেমসের সেমিফাইনালে পাকিস্তানের কাছে হেরে ফাইনালের স্বপ্ন শেষ হলো বাংলাদেশের। আগে ব্যাট করে ৭ উইকেটে ১১১ রান তোলে বাংলাদেশ। জবাবে ৪ উইকেট হারিয়ে ১১২ রান তুলে ফাইনাল নিশ্চিত করে পাকিস্তান।

শুরুতেই ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে বাংলাদেশ। দ্বিতীয় ওভারে তানজিদ হাসান ৭ রানে ফিরলে দল চাপে পড়ে। এরপর দ্রুত আউট হন অধিনায়ক লিটন দাস ও পারভেজ হোসেন ইমন। ৩.২ ওভারে ৩ উইকেটে ২১ রান হয়ে যায় বাংলাদেশের। সাইফ হাসান ১৭ বলে ১৯ রান করে ৬.৩ ওভারে আউট হলে ৪৫ রানে চতুর্থ উইকেট হারায় দল।

সেখান থেকে তাওহীদ হৃদয় ইনিংস টেনে তোলেন। ২৫ বলে ২ চার ও ৪ ছক্কায় ৪২ রান করেন তিনি, যা ছিল বাংলাদেশের ইনিংসে সর্বোচ্চ। মোসাদ্দেক হোসেনের সঙ্গে পঞ্চম উইকেটে জুটি গড়ে দলকে এগিয়ে নেন। তবে শেষ দুই ওভারে উইকেট হারানোয় বড় সংগ্রহ হয়নি। মোসাদ্দেক ১৬ বলে ১১ রান করেন। শেষ দিকে মেহেদী হাসান ৪ বলে ৮ রানে অপরাজিত থাকেন।

পাকিস্তানের পক্ষে সুফিয়ান মুকিম ৩ ওভারে ২৬ রানে ৩ উইকেট নেন। আরাফাত মিনহাস ২টি এবং সাইম আইয়ুব ১টি উইকেট পান। আইয়ুব ২ ওভারে মাত্র ৩ রান দেন।

লক্ষ্য তাড়ায় পাকিস্তানের শুরুও ভালো হয়নি। প্রথম ওভারের শেষ বলে সাহিবজাদা ফারহানকে ফেরান মেহেদী হাসান। পরের ওভারে নাসুম আহমেদের শিকার মাজ সাদাকাত। চতুর্থ ওভারে ২১ রান করা সাইম আইয়ুবকে ফেরান মোস্তাফিজুর রহমান। ৬.১ ওভারে উসমান খানকে আউট করে রিশাদ হোসেন। তখন পাকিস্তানের স্কোর ৪ উইকেটে ৫৩।

সেখান থেকে হাসান নওয়াজ ও আবদুল সামাদ ম্যাচ ঘুরিয়ে দেন। পঞ্চম উইকেটে ২৪ বলে ৫০ রানের জুটি হয়। সামাদ ১৫ বলে ৫ চার ও ১ ছক্কায় ৩০ রান করেন। নওয়াজ ১৯ বলে ২৩ রানে অপরাজিত থাকেন। ১১ ওভার শেষে পাকিস্তানের প্রয়োজন ছিল ১২ বলে মাত্র ৪ রান। সেখান থেকে আর ম্যাচ হাতছাড়া করেনি তারা।

বাংলাদেশের বোলারদের মধ্যে রিশাদ ২ ওভারে ৮ রানে ১ উইকেট পান। মেহেদী ৩ ওভারে ১৭ রানে ১ উইকেট নেন। তবে মুস্তাফিজুর রহমানের ২ ওভারে খরচ হয় ৪১ রান।

কোয়ার্টার ফাইনালে মালয়েশিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ বৃষ্টিতে পরিত্যক্ত হওয়ায় উচ্চতর র্যাঙ্কিংয়ের সুবাদে সেমিফাইনালে ওঠে বাংলাদেশ। তবে মাঠে নেমে শেষ পর্যন্ত সোনার পদকের আশা পূরণ হলো না।