চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পূর্ব পাশে রেলওয়ের জমিতে গড়ে ওঠা অবৈধ বসতি উচ্ছেদ করতে গিয়ে প্রশাসন বাধার মুখে পড়েছে। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সীতাকুণ্ডের কুমিরা জোড়ামতল এলাকায় রেলওয়ে চট্টগ্রাম বিভাগীয় ভূ-সম্পত্তি কর্মকর্তা খোরশেদ আলম চৌধুরীর নেতৃত্বে অভিযান পরিচালনা করা হয়। তবে স্থানীয়দের তীব্র প্রতিরোধের কারণে অভিযানটি স্থগিত করে ফিরে যায় দলটি।

গত ৭ সেপ্টেম্বর রেলওয়ে চট্টগ্রাম বিভাগীয় ভূ-সম্পত্তি কর্মকর্তা খোরশেদ আলম চৌধুরী স্বাক্ষরিত এক ‘উচ্ছেদ নোটিশ’ জারি করা হয়। নোটিশে উল্লেখ করা হয়, কুমিরা স্টেশন এলাকার আওতাধীন ঢাকা-চট্টগ্রাম মেইল লাইনের ২২/৩ হতে ২২/৫ এর মধ্যবর্তী রেললাইনের পশ্চিম পাশে পুরাতন সেতু ইয়ার্ড এলাকায় অবৈধভাবে টিনশেড বা ঝুপড়ি ঘর নির্মাণ করে দখলদাররা বসবাস করছেন, যা ১৯৭০ সালের ২৭ নম্বর অধ্যাদেশের ৭(১) ধারা অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ। নোটিশে প্রাপ্তির ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে স্ব-উদ্যোগে অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জোড়ামতল এলাকায় রেলওয়ের ভূমিতে তিন শতাধিক পরিবার প্রায় তিন দশক ধরে বসবাস করে আসছেন। তাদের কোনো বিকল্প পুনর্বাসনের ব্যবস্থা না করে হঠাৎ উচ্ছেদ করতে আসায় তারা পরিবার-পরিজন নিয়ে রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ জানান এবং অবস্থান নেন। বাসিন্দাদের তীব্র বাধা ও অসন্তোষের মুখে অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে শেষ পর্যন্ত অভিযান বন্ধ রেখে ফিরে যায় রেলওয়ের উচ্ছেদকারী দল।

সীতাকুণ্ড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহিনুল ইসলাম বলেন, রেলওয়ের জমিদে কিছু লোকজন অবৈধভাবে বসবাস করছে। সেই জায়গা লিজ দেওয়া হয়েছে। এজন্য রেলওয়ে সেখানে উচ্ছেদ অভিযান চালাতে এসেছিল। কিন্তু সেখানকার যারা বাসিন্দা তারাও ভূমিহীন। তারা বলছে যে তারা যাবে কোথায়। পরে তাদের আরও ৩০ দিনের সময় দিয়ে উচ্ছেদ অভিযান স্থগিত করে ম্যাজিস্ট্রেট ফিরে যান।