অবশেষে দুই সন্তানসহ নিজ ঘরে উঠেছেন চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলার চিতোষী পূর্ব ইউনিয়নের শামপুর গ্রামের বিধবা গৃহবধূ কুলসুম বেগম। এ ক্ষেত্রে তার পাশে দাঁড়িয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মনিরা খাতুন। বুধবার (২৮ অক্টোবর) নিজ কার্যালয়ে ডেকে এনে ভুক্তভোগী গৃহবধূ ও অভিযুক্ত ভাসুরের মধ্যে সসমঝোতা করে দেন তিনি।
এর আগে জমি-সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের জেরে কুলসুমকে মারধর ও বসতঘর (বিল্ডিং) থেকে উচ্ছেদ করার অভিযোগ তুলে ইউএনও বরাবর লিখিত অভিযোগ জমা দেন। এ নিয়ে বুধবার অনলাইন নিউজ পোর্টাল মুক্তকণ্ঠে ‘বসতঘর দখলে নিয়ে দুই সন্তানসহ গৃহবধূকে উচ্ছেদ, অন্যের রান্নাঘরে আশ্রয়’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয়। এরপর ইউএনও বিষয়টির উদ্যোগ নেন।
এদিকে নিজ ঘরে ফিরতে ফেরে সন্তোষ প্রকাশ কুসুম বেগম বলেন, আমার অসহায় অবস্থা দেখে ইউএনও ম্যাডাম এগিয়ে এসছেন। তিনি আমাকে আমার ঘরে ফেরার সুযোগ করে দিয়েছেন। এ জন্য আমি তার কাছে কৃতজ্ঞ এবং আমার বিষয়টি তুলে ধরার জন্য গণমাধ্যমকে ধন্যবাদ।
এ বিষয়ে ইউএনও মনিরা খাতুন মুক্তকণ্ঠকে বলেন, গৃহবধূ কুলসুম বেগম এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ জমা দেন। প্রথমে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানকে দায়িত্ব দিই। কিন্তু সমাধান হয়নি। যখন খবর পেলাম যে তিনি সন্তানসহ অন্যের রান্নাঘরে থাকছেন, দ্রুত তাকে ও তার অভিযুক্ত ভাসুরকে আমার কার্যালয়ে ডেকে পাঠাই। শুনানির পর গৃহবধূ ও তার সন্তানদের নিজঘরে থাকার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করি। এ বিষয়ে দুপক্ষের কাছ থেকে মুচলেকা নেওয়া হয়। অভিযুক্ত ভাসুর তার ভুল বুঝতে পেরেছেন।
ইউএনও আরও বলেন, যতটুকু জেনেছি তাদের সম্পত্তি ও পারিবারিক বিরোধ রয়েছে। জমির কাগজপত্র দেখে ইউনিয়ন পরিষদে গ্রাম আদালতে বিষয়টি সমাধানের জন্য চেয়ারম্যান ও সদস্যদের বলা হয়েছে। যত দিন এ বিষয়ে সমাধান না হবে, তত দিন গৃহবধূ ও তার সন্তানদের ঘর থেকে উচ্ছেদ করা যাবে না বলে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। যদি এ ধরনের কোনো কাজ পুনরায় হয়ম তাহলে প্রশাসনিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এর আগে গত ২১ সেপ্টেম্বর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কাছে ওই লিখিত অভিযোগ দেন কুলসুম বেগম। অভিযোগে তিনি বলেন, কুলসুম বেগম শাহরাস্তি উপজেলার চিতোষী পূর্ব ইউনিয়নের সামপুর গ্রামের বাসিন্দা। তার স্বামী প্রয়াত আলা উদ্দিন জীবদ্দশায় ব্যবসা ও কৃষিকাজের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ২০১৯ সালে তার স্বামীর মৃত্যুর পর সম্পত্তি ও পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিরোধের সৃষ্টি হয়।
কুলসুম বেগমের অভিযোগ, স্বামীর মৃত্যুর পর দুই সন্তানকে নিয়ে যখন তিনি অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন, ঠিক তখনই স্বামীর রেখে যাওয়া সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের জেরে তাকে বিভিন্নভাবে হয়রানি শুরু করা হয়। এমনকি তাকে মারধর ও বসতঘর থেকে উচ্ছেদ করা হয়েছে।
কুলসুম বেগম আরও বলেন, বিষয়টির সমাধান চাইলে স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সালিশ-বৈঠকের উদ্যোগ নেওয়া হয়। কিন্তু নানা কারণে সমস্যার স্থায়ী সমাধান হয়নি। এ পরিস্থিতিতে তিনি ও তার সন্তানরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
বিধবা গৃহবধূ কুলসুম বেগমের দুই সন্তানের মধ্যে মেয়ে ইউনিয়নের খেড়িহর উচ্চবিদ্যালয়ে ষষ্ঠ শ্রেণিতে এবং ছেলে পাশের গ্রাম মনোহরপুর এতিমখানা ও হাফেজিয়া মাদ্রাসায় পড়ে।