চাঁদপুরের শাহরাস্তিতে পাঁচ ছেলের কারও ঘরে আশ্রয় পাননি ৮৫ বছর বয়সী জয়নব ভানু। দীর্ঘ এক মাস চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফিরে ছেলেদের ঘরে আশ্রয় না পেয়ে দরজার সামনে অপেক্ষা করতে থাকেন তিনি। পরে স্থানীয় কয়েকজন যুবকের কাছে নিজের অসহায়ত্বের কথা জানিয়ে স্বামীর ভিটায় একটি ছোট কুঁড়েঘর নির্মাণ করে দেওয়ার আকুতি জানান তিনি। শেষ পর্যন্ত মেয়ে ঝর্ণা বেগম তাকে নিজের সঙ্গে নিয়ে যান।
জয়নব ভানু শাহরাস্তি উপজেলার চিতোষী পূর্ব ইউনিয়নের পূর্ব কাদরা গ্রামের মৃত সৈয়দ আহমেদের স্ত্রী। তার অভিযোগ, পাঁচ ছেলে থাকলেও বার্ধক্যে এসে তাদের কারও ঘরেই তার ঠাঁই হয়নি।
জয়নব ভানুর ভাষ্য, দীর্ঘ এক মাস কুমিল্লায় চিকিৎসাধীন থাকার পর বাড়িতে ফিরে তিনি ছেলেদের ঘরে ঢুকতে পারেননি। একের পর এক দরজায় টোকা দিয়ে ডাকাডাকি করেও সাড়া না পেয়ে দরজার সামনে বসে থাকেন।
এ সময় স্থানীয় কয়েকজন যুবক তাকে দেখতে পেয়ে খোঁজখবর নেন। তাদের কাছে কান্নাজড়িত কণ্ঠে নিজের অসহায়ত্বের কথা তুলে ধরে স্বামীর ভিটায় একটি ছোট কুঁড়েঘর নির্মাণ করে দেওয়ার অনুরোধ জানান তিনি।
তবে জয়নব ভানুর অভিযোগের বিষয়ে তার ছেলেদের পরিবারের সদস্যরা ভিন্ন বক্তব্য দিয়েছেন। মেজো ছেলে আবুল কাশেম দাবি করেন, তার মা দীর্ঘ এক বছর কোথায় ছিলেন, তা তিনি জানেন না। তবে মাকে কয়েকবার ডেকেছেন বলে জানান তিনি।
বড় ছেলে শাহজাহানের স্ত্রী বলেন, জয়নব ভানু তাদের ঘরের দরজার সামনে কয়েক মিনিট বসেছিলেন। এরপর কী হয়েছে, তা তিনি জানেন না। সেজো ছেলে আনোয়ার হোসেনের স্ত্রীও দাবি করেন, জয়নব ভানু কখন বাড়িতে এসেছেন, তা তারা জানেন না।
মায়ের এমন পরিস্থিতির খবর পেয়ে ছুটে আসেন মেয়ে ঝর্ণা বেগম। তিনি অভিযোগ করেন, প্রায় ২০ বছর ধরে তার মায়ের সঙ্গে এমন আচরণ করা হচ্ছে। ছেলেরা মাকে নিজেদের বাড়িতে নিতে চান না বলেও অভিযোগ করেন তিনি। পরে মাকে নিজের সঙ্গে নিয়ে যান ঝর্ণা।
স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল কাদের খান ঘটনাটিকে হৃদয়বিদারক বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, বিষয়টি এলাকাবাসীর সঙ্গে আলোচনা করে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
চিতোষী পূর্ব ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলম বেলাল বলেন, তিনি আগে এ বিষয়ে কিছু জানতেন না। একজন বৃদ্ধা মায়ের এমন পরিস্থিতির কথা শুনে তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন। সামাজিকভাবে বিষয়টি খতিয়ে দেখে ছেলেদের জবাবদিহির আওতায় আনা উচিত বলে মনে করেন তিনি।
এ বিষয়ে শাহরাস্তি মডেল থানার ওসি মীর মাহবুবর রহমান বলেন, ঘটনার খবর পেয়ে সেখানে একজন এসআই আব্দুল বাতেনকে পাঠানো হয়েছে। তবে প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগের বর্ণনার সঙ্গে পুরোপুরি মিল পাওয়া যায়নি। ওই নারীর পাঁচ সন্তানই প্রবাসে থাকেন। এরপরও ছেলে-মেয়েদের কারও অবহেলা রয়েছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হবে। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে জয়নব ভানুকে থানায় ডাকা হয়েছে। তার বক্তব্য শোনার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের পাশাপাশি জয়নব ভানুর নিরাপদ আশ্রয়, চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় যত্ন নিশ্চিত করা এখন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।