দিনাজপুর সদর উপজেলার জামতলী এলাকায় সাড়ে তিন মাস আগে এক শিশুকে হত্যা করে লাশ গুম করার ঘটনায় শিশুটির মা, তাঁর প্রেমিক ও আরও একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আজ মঙ্গলবার ভোররাতে পুলিশ শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে। বেলা দুইটায় পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই ঘটনার বিস্তারিত জানানো হয়।
গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন রিপন টুডু (৪৫), জিন্নাতুন এবং রিপনের ভাগনে সুজন টুডু (২০)। লাশ গুম করতে সহায়তা করার অভিযোগে সুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। রাকিবার মায়ের করা লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা দায়ের করে তাঁদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
ঘটনার বিবরণ অনুযায়ী, চলতি বছরের মে মাসে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে জিন্নাতুন ও তাঁর চার বছর বয়সী মেয়ে রাকিবা আক্তারকে নিজ বাড়িতে নিয়ে যান রিপন টুডু। সেখানে তাঁরা স্বামী-স্ত্রীর মতো বসবাস শুরু করেন। অভিযোগ রয়েছে, বিয়ের জন্য চাপ দিলে রিপন প্রায়ই জিন্নাতুন ও তাঁর মেয়েকে মারধর করতেন। গত ৫ জুন মারধরের এক পর্যায়ে শিশুটিকে জানালার সঙ্গে বেঁধে রাখা হয়, যার ফলে রাকিবার মৃত্যু ঘটে। এরপর মরদেহটি বাড়ির পাশের একটি নারকেলবাগানে মাটিচাপা দেওয়া হয়।
জিন্নাতুনের বাড়ি সদর উপজেলার খোসালপুর গ্রামে। তিনি গত ১৭ সেপ্টেম্বর কোতোয়ালি থানায় রিপন টুডুসহ সাতজনের বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। সেখানে তিনি জানান, ১৪ সেপ্টেম্বর রিপন তাঁকে আবারও মারধর করেন এবং কৌশলে পালিয়ে বাবার বাড়িতে গিয়ে তিনি মেয়ে হত্যার বিষয়টি জানান।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২০ সালে কাহারোল উপজেলার রুবেল ইসলামের সঙ্গে জিন্নাতুনের বিয়ে হয়েছিল এবং তাঁদের মেয়ে রাকিবা। ২০২৫ সালের শেষ দিকে দাম্পত্য কলহের কারণে তাঁদের বিচ্ছেদ হয়। এরপর মেয়েকে নিয়ে বাবার বাড়িতে থাকা জিন্নাতুনের সঙ্গে চলতি বছরের মার্চে রিপন টুডুর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। রিপন পেশায় দিনমজুর এবং স্থানীয়দের দাবি তিনি মাদক ব্যবসার সঙ্গেও জড়িত।
গত সোমবার পুলিশ রিপন ও জিন্নাতুনকে আটক করে। তাঁদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই আজ ভোররাতে নারকেলবাগান থেকে রাকিবার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। উল্লেখ্য, গত রোববার তাঁদের গ্রেপ্তারের দাবিতে স্থানীয় লোকজন রিপনের বাড়িতে ভাঙচুর করেন এবং মহাসড়কের পাশে আসবাবপত্রে আগুন ধরিয়ে দেন।
দিনাজপুর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) আনোয়ার হোসেন বলেন, "শিশুটির মায়ের অভিযোগ পাওয়ার পর থেকেই থানা পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা পুলিশের সদস্যরা কাজ করছিলেন। গতকাল তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় দুজনকেই আটক করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রিপন এ হত্যাকাণ্ড ও লাশ গুম করার কথা স্বীকার করেছেন। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।"
তিনি আরও জানান, "জিন্নাতুন পুলিশের কাছে অভিযোগ করেছেন অথচ পুলিশ দেখে পালিয়ে গেছেন। রিপনের বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ করেছেন, আবার তাঁর সঙ্গেই আত্মগোপনে যাওয়ার চেষ্টা করেছেন। যেহেতু দুজনই আটক হয়েছেন, অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদে প্রকৃত বিষয়টি জানা যাবে। একই সঙ্গে এ ঘটনায় আরও কেউ জড়িত আছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।"