চট্টগ্রাম নগরের পতেঙ্গায় আট বছর বয়সী এক শিশুকে ইট দিয়ে মাথা থেঁতলে হত্যার দায়ে প্রতিবেশী ইমরান হোসেনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। সাড়ে আট বছর আগে সংঘটিত এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আজ বৃহস্পতিবার চট্টগ্রামের অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালত-১১-এর বিচারক নিষ্কৃতি হাগিদক এই রায় প্রদান করেন।
দণ্ডিত আসামি ইমরান হোসেনের বর্তমান বয়স ২৮ বছর। তিনি ভোলা জেলার চরফ্যাশন উপজেলার নুরাবাদ পশ্চিমপাড়ার রব চৌকিদার মাঝির সন্তান। তাঁর বাবার নাম আবদুল করিম।
আদালতের বেঞ্চ সহকারী ওমর ফুয়াদ মুক্তকণ্ঠকে বলেন, “শিশুহত্যা মামলায় ইমরান হোসেনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাঁকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক বছর বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।” রায় ঘোষণার সময় আসামি ইমরান হোসেন আদালতে উপস্থিত ছিলেন না। ফলে তাঁর বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানা জারি করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
আদালত সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, ২০১৮ সালের ৮ মার্চ দুপুরে পতেঙ্গার খালপাড় এলাকায় আট বছর বয়সী ওই শিশুটি খেলাধুলা করছিল। সেই সময় রিকশাচালক ইমরান হোসেন শিশুটিকে বরই খাওয়ানোর প্রলোভন দেখিয়ে একটি পরিত্যক্ত ভাড়া ঘরে নিয়ে যান। সেখানে শিশুটিকে ৫০ টাকা দেওয়ার লোভ দেখিয়ে অনৈতিক কাজে প্রলুব্ধ করার চেষ্টা করেন তিনি। শিশুটি এই প্রস্তাবে রাজি না হয়ে বাধা দেয় এবং চিৎকার করে সেখান থেকে পালানোর চেষ্টা করে। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ইমরান ইট দিয়ে শিশুটির মাথা ও কপালে উপর্যুপরি আঘাত করেন, যার ফলে ঘটনাস্থলেই শিশুটির মৃত্যু হয়।
পরিবারের সদস্যরা নিখোঁজ শিশুটির খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে ওইদিন সন্ধ্যায় পরিত্যক্ত ঘর থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করেন। মরদেহের পাশেই রক্তমাখা ইট পড়ে থাকতে দেখা যায়। এই বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের পর শিশুটির বাবা পতেঙ্গা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পুলিশ তদন্তের পর ইমরানকে গ্রেপ্তার করে এবং তিনি হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেন।
তদন্ত প্রক্রিয়া শেষ করে ২০১৮ সালের ১০ আগস্ট পুলিশ আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। পরবর্তীতে ২০১৯ সালের ২৭ আগস্ট আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে মামলার বিচার কার্যক্রম শুরু হয়। মোট ১২ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণের পর আদালত আজ এই চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করেন।
নিহত শিশুটির বাবা মুক্তকণ্ঠকে বলেন, “রায়ের আদেশে তাঁরা সন্তুষ্ট। আসামির মৃত্যুদণ্ড যেন দ্রুত কার্যকর হয়, সেটাই তাঁদের প্রত্যাশা।”