ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে নিখোঁজের দুই দিন পর এক শিশুর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। আজ সোমবার বিকেলে উপজেলার একটি গ্রামের পুকুরপাড়ের ঝোপ থেকে শিশুটির লাশ পাওয়া যায়।

নিহত শিশুটি (৭) গ্রামের এক মাদ্রাসায় পড়াশোনা করত। সে ছিল দুই বোনের মধ্যে বড়। তার বাবা ঢাকায় একটি বেকারিতে কর্মরত এবং মা ও বোন গ্রামে থাকতেন।

পুলিশ ও স্বজনদের সূত্রে জানা গেছে, নিখোঁজ শিশুটির মামার বাড়ি একই গ্রামে মাত্র ১০ মিনিটের হাঁটা দূরত্বে। গত শনিবার সকালে সে মামার বাড়ি থেকে বের হয়ে আর বাড়ি ফিরে আসেনি। পরিবারের সদস্যরা ব্যাপক খোঁজাখুঁজির পর তাকে পাননি, এরপর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়।

আজ বিকেলে গ্রামের বড় বাড়ির পুকুরপাড়ের ঝোপে শিশুটির অর্ধগলিত মরদেহ দেখতে পান স্থানীয়রা। তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশকে খবর দেওয়া হলে তারা লাশটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

ঘটনা প্রসঙ্গে শিশুটির বাবা সাংবাদিকদের জানান, দুর্বৃত্তরা তাঁর মেয়েকে হত্যা করেছে এবং তিনি এই ঘটনার বিচার চান।

আজ রাত সাড়ে আটটার দিকে শিশুটির মামা মুক্তকণ্ঠকে বলেন, “শনিবার সকাল পৌনে ১০টার দিকে তাঁর ভাগনি বাড়ির উদ্দেশ্যে বের হয়। ১৫ মিনিট পর তাঁর বোন (শিশুটির মা) তাঁদের বাড়িতে আসেন। তিনি মেয়ের খোঁজ নেন। তখন নিখোঁজের বিষয়টি বোঝা যায়। এরপর তাঁরা সবাই ভাগনির খোঁজ শুরু করেন। এলাকায় মাইকিং, মসজিদে ঘোষণা, ফেসবুকে পোস্ট দেওয়া হয়। পরে থানায় জিডি করা হয়।”

তিনি আরও বলেন, “আজ বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে নিজ বাড়ি থেকে দুই মিনিট হাঁটা দূরত্বে তাঁর লাশ পাওয়া যায়। লাশ পঁচে গেছে। মুখ কালো হয়ে গিয়েছিল। কারও সঙ্গে আমার বোন–ভগ্নিপতির শত্রুতা নেই। কোনো কিছু আমরা ধারণা করতে পারছি না।”

নবীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোরশেদুল আলম চৌধুরী জানান, শিশুটির অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। তিনি আরও বলেন, পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। কীভাবে শিশুটির মৃত্যু হয়েছে তা এখন নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।